ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩ সফর ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট খোলার প্রস্তুতি: শনিবার শুরু হতে পারে পানি নিষ্কাশন জার্মান নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস ‘ফ্যাসিবাদী সরকার অর্থনীতি ধ্বংস করে গেছে’: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তালাকের অজুহাতে ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্ট বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ: দগ্ধ ৫ জন আইসিইউতে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: ৩ প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএফএসএ-র মিয়ানমার উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবি: ৫৩০ রোহিঙ্গার সলিল সমাধি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত কঠোর আন্দোলনের মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা শুরু: বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ বুধবার পরীক্ষা স্থগিত না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আগের সিদ্ধান্তে অটল সরকার, চট্টগ্রাম ছাড়া দেশজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষা চলবে: পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা ১০ ঘণ্টা পর রাজপথ ছাড়ল শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত বিতর্কিত মন্তব্যে দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর: সংসদে বড় ঘোষণা ও সংসদ ভবনে উত্তেজনা সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী: এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গেট খুলে মাথায় নিলেন পরীক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে অভিনব প্রতিবাদ: আত্মপ্রকাশ করলো ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’! পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ঢাবি ও উত্তরা: বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

মব সন্ত্রাসে আতঙ্কিত বাংলাদেশ: ২০২৫ সালে ১৮৪ প্রাণহানি, দায় এড়াচ্ছে কারা?

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৮-১২-২০২৫ ১০:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-১২-২০২৫ ১০:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ৪ বার পঠিত
মব সন্ত্রাসে আতঙ্কিত বাংলাদেশ: ২০২৫ সালে ১৮৪ প্রাণহানি, দায় এড়াচ্ছে কারা? ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে জনজীবনে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনি। ২০২৫ সালে সারা দেশে এ ধরনের সহিংসতায় অন্তত ১৮৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে দলবদ্ধ জনতা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে হত্যা, লাশ পোড়ানো কিংবা নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ‘মব’ ও ‘মব জাস্টিস’ শব্দ দুটি এখন নিয়মিত আলোচনার বিষয়। ইংরেজি ‘মব’ শব্দের অর্থ উচ্ছৃঙ্খল জনতা, আর সেই জনতা যখন আইন ও বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে সহিংসতায় জড়ায়, তখন সেটিই মব জাস্টিস হিসেবে চিহ্নিত হয়।

এ ধরনের সহিংসতা মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার ১০ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিক ন্যায়বিচার ও নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রাখে। একইভাবে বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে সব নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত বছরের ৫ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে দেশের ৪৯ জেলায় হামলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ১ হাজার ৬৮টি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের অনুসন্ধানের বরাতে জানানো হয়েছে, এ সময় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ৯৮ শতাংশের বেশি ঘটেছে রাজনৈতিক কারণে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শুরুতে মব সন্ত্রাসকে অনেকেই প্রতিবাদের ভাষা বা গণক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেছেন। ফলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর অবস্থান নিতে বিলম্ব হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে এমন অন্তত ১৬৮টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মব তাণ্ডব চললেও পুলিশ হস্তক্ষেপ করেনি। কোনো কোনো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উল্টো মবকারীদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বাহিনীর মনোবল সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা। ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন ও পরদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়। শুধু ঢাকায় ১ হাজার ৮৯৮টি আগ্নেয়াস্ত্র খোয়া যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সারাদেশে কার্যত কয়েক দিন পুলিশি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ১৩ আগস্ট থানাগুলো চালু হলেও বাহিনী এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।

মব সন্ত্রাসের বিস্তারের আরেকটি বড় কারণ বিচারহীনতা। অধিকাংশ ঘটনায় মামলা পর্যন্ত হয়নি। যেসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগ অভিযুক্ত অল্পদিনেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত মব সন্ত্রাসের ঘটনায় সরকারি হিসাবে ৩১ জন গ্রেপ্তার হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই যদি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মব সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিত, তাহলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নিত না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাই মব সন্ত্রাসকে ক্রমশ একটি সামাজিক মহামারিতে পরিণত করেছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Kaler Diganta

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।