কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে; দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর সিন্দুকগুলো খুলে বের হয়েছে ৩৫ বস্তা ভর্তি টাকা, যা সারাদিন ধরে গণনা করা হবে সংশ্লিষ্ট সব দফতরের উপস্থিতিতে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সকাল ৭টার দিকে দানবাক্স খোলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এবং সকাল ৯টা থেকে টাকাগণনা শুরু করে দিনব্যাপী তা চলমান থাকবে। গণনা কার্যক্রম তদারক করছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন।
এবারের গণনায় অংশ নিয়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি। এর মধ্যে রয়েছেন ৩৫০ জন মাদ্রাসাছাত্র, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৩ জন শিক্ষক ও স্টাফ, ২০ জন সেনা সদস্য, ৩০ জন পুলিশ সদস্য, ১০ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য, ৫ জন আনসার সদস্য এবং শতাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা–কর্মচারী। স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাই নির্ধারিত টেবিলে বসে পৃথকভাবে নোট গণনা করছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বছরের পর বছর ধরে পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা বিপুল পরিমাণ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দান করে থাকেন। এসব দানের অর্থ মসজিদের উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা, মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়, যা স্থানীয় সামাজিক–ধর্মীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্টাফ রিপোর্টার