উত্তরবঙ্গের সবজির ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত পাবনায় সবজি সংরক্ষণে আধুনিক ও সাশ্রয়ী ‘ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে নতুন স্বস্তি নিয়ে এসেছে। উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে ভরা মৌসুমে পানির দরে সবজি বিক্রির দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে কৃষি মন্ত্রণালয় এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হলরুমে এই প্রযুক্তি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জানানো হয় যে, সোলার ও সেন্সর নিয়ন্ত্রিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবজি কয়েক মাস পর্যন্ত সতেজ রাখা সম্ভব। এর ফলে কৃষক এখন বাজার বুঝে সুবিধাজনক সময়ে পণ্য বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।
পাবনা জেলায় শীত ও গ্রীষ্ম—উভয় মৌসুমেই প্রচুর পরিমাণে বেগুন, টমেটো, শসা ও ফুলকপি উৎপাদিত হয়। কিন্তু একসাথে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে আসায় দাম দ্রুত পড়ে যেত এবং সংরক্ষণের উপায় না থাকায় তা মাঠেই নষ্ট হতো। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় সারা দেশে ১০০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করেছে। এর মধ্যে ঘরভিত্তিক (TSCR) স্টোরেজে প্রায় ১০ টন পণ্য রাখা যায়। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আলি কবির প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশে উৎপাদন বাড়লেও সঠিক সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়েন। এই সাশ্রয়ী হিমাগার সেই সমস্যার একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা পণ্য মজুত রেখে বাজার ব্যবস্থাপনায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, এই সোলারভিত্তিক কনটেইনারগুলো কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে।
কর্মশালা শেষে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকায় একটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা। সেখানে সংরক্ষিত ফুলকপি, লাউ ও ব্রোকলি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় কৃষক সিদ্দিকুর রহমান তার অভিজ্ঞতায় জানান, আগে বাজার মন্দা থাকলে সবজি পচে নষ্ট হয়ে যেত, কিন্তু এখন সংরক্ষণের সুযোগ থাকায় লোকসানের ভয় কেটেছে। কৃষকরা এই প্রযুক্তি গ্রাম পর্যায়ে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট