প্রথমেই যে আমলটির কথা গুরুত্বের সাথে আসে তা হলো প্রতিবার ওজুর পর ‘কালিমা শাহাদাত’ পাঠ করা। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওজু শেষ করে নির্দিষ্ট দোয়াটি পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো দরজা দিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে পারবে। দোয়াটি হলো—
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ
(অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি নবী (সা.) তাঁর বান্দা ও তাঁরই রাসুল; হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।)
দ্বিতীয় সহজ আমলটি হলো প্রতিবার ফরজ নামাজের পর একবার ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র বাধা হলো মৃত্যু। অর্থাৎ মৃত্যুর পরপরই সে জান্নাতের নেয়ামত লাভের অধিকারী হবে। আয়াতুল কুরসি হলো—
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلۡحَیُّ اَلۡقَیُّوۡمُ ۬ۚ لَا تَاۡখُذُهٗ سِنَۃٌ وَّ لَا نَوۡمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی اَلۡاَرۡضِ ؕ مَنۡ ذَا اَلَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ ؕ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ ۚ وَ لَا یُحِیۡطُوۡনَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرۡسِیُّهُ اَلسَّمٰوٰتِ وَ اَلۡاَرۡضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا ۚ
(অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু তাঁরই। কে আছে এমন যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তাদের সামনে কী আছে ও পিছনে কী আছে সবই তিনি জানেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁর কষ্ট হয় না। এবং তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।)
তৃতীয় আমলটি হলো মুয়াজ্জিনের আজানের উত্তর দেওয়া। অত্যন্ত মনোযোগ ও আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে আজানের প্রতিটি বাক্যের সঠিক জবাব দেওয়া জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার অন্যতম কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছেন, মুয়াজ্জিন যা বলেন তার পুনরাবৃত্তি করা, তবে ‘হাইয়্যা আলাস-সলাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল-ফালাহ’ বলার সময় ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলা। যদি কেউ অন্তর থেকে বিশ্বাস নিয়ে এই উত্তরগুলো দেয়, তবে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। এই আমলগুলো ছোট মনে হলেও পরকালে এগুলোর ওজন হবে অপরিসীম। তাই আজ থেকেই এই সাধারণ অভ্যাসগুলো পালনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর জান্নাতের কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করতে পারি।
ডেস্ক রিপোর্ট