রাজধানীর কাপ্তানবাজারের রাত্রিকালীন পাইকারি পোলট্রি মার্কেটে নতুন ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেডের লোকজনের ওপর টানা হামলার সর্বশেষ ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ইজারাদার পক্ষের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র ধারাবাহিকভাবে হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাজার পরিচালনায় বাধা দিচ্ছে।
শনিবার রাতে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন ওয়ারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন, যেখানে উল্লেখ করা হয় ১৯ নভেম্বর থেকে ইজারা কার্যাদেশ কার্যকর হলেও ২৩ ও ২৪ নভেম্বর রাতে ৭০–৮০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাজারে তালা ঝুলিয়ে দখল করে রাখে এবং ইজারাদারদের প্রবেশে বাধা দিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ ডিসেম্বর রাতে সিটি করপোরেশনের হাজিরা অফিসসংলগ্ন পশ্চিম অংশে ইজারা আদায়কালে এমদাদ হোসেন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে ২০–৩০ জনের আরেকটি দল হামলা চালিয়ে এক কর্মচারীর কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, অন্যজনের স্বর্ণের চেইন, ঘড়ি ও মানিব্যাগ লুট করে।
সর্বশেষ ১১ ডিসেম্বর ভোর ৩টার দিকে ইজারা আদায়কালে একজন কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রামদা দিয়ে মাথায় কোপানো হয় এবং অন্যদের ওপর লোহার রড, হকিস্টিক ও জিআই পাইপ দিয়ে হামলা চালানো হয়; এক কর্মচারীর খুব কাছ দিয়ে গুলি ছুড়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। এ ঘটনায় মোট আটজন আহত হন, তাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন; হামলাকারীরা তখন আরও ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার বেশি ইজারা আদায়ের অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ২৬ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০০ দোকানের মধ্যে ২০০টির বেশি দোকান অবৈধভাবে দখল করে রাখে চাঁদাবাজ চক্রটি এবং প্রতিদিন ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে; চাঁদা না দিলে বাজারে প্রবেশ করলে হত্যা করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। ইজারাদার প্রতিষ্ঠান দখল উচ্ছেদ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং কাপ্তানবাজার এলাকায় স্থায়ী পুলিশি নিরাপত্তা জোরদারের আবেদন করেছে; ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্য, সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ইজারা নেওয়ার পরও নিয়মিত চাঁদাবাজি ও হামলার কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না।
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে; তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, কাপ্তানবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজারে টানা হামলা ও দখলদারির ঘটনায় দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে নিরাপত্তাহীনতা ও বাজার অস্থিরতা আরও বাড়বে।
স্টাফ রিপোর্টার