ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের অপারেশান পরিচালক লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রায় ৩৩ ঘণ্টা ধরে চলা কঠিন উদ্ধার অভিযান শেষে শিশু সাজিদকে কূপের প্রায় ৫০ ফুট গভীর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার করার সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়, তবে সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে তানোরের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের মাঠে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় অসাবধানতাবশত পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় সাজিদ।
শিশু সাজিদকে উদ্ধারে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট টানা কাজ করে।
শিশু সাজিদকে উদ্ধারে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট টানা কাজ করে।
প্রথমে সার্চ ভিশন ক্যামেরা দিয়ে প্রায় ৩৫ ফুট পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানো হলেও শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
এরপর নলকূপের পাশে এস্কেভেটর দিয়ে রাতভর ৩৫ ফুট গভীর বড় একটি গর্ত খনন করা হয়। সকালে সেই গর্ত থেকে নলকূপের দিকে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার চেষ্টা করেও সাজিদের অবস্থান মেলেনি।
এরপর নলকূপের পাশে এস্কেভেটর দিয়ে রাতভর ৩৫ ফুট গভীর বড় একটি গর্ত খনন করা হয়। সকালে সেই গর্ত থেকে নলকূপের দিকে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার চেষ্টা করেও সাজিদের অবস্থান মেলেনি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হাল না ছেড়ে নতুন করে আবারও খননের সিদ্ধান্ত নেন এবং এই প্রচেষ্টাতেই ৩৩ ঘণ্টা পর শিশু সাজিদকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ওই নলকূপ খোঁড়া হয়েছিল। পানি না ওঠায় মালিক সেটি মাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন। কিন্তু সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে পড়লে নলকূপের মুখ আবারও উন্মুক্ত হয়ে যায়, সেখানেই দুর্ঘটনাবশত পড়ে যায় শিশু সাজিদ।
দীর্ঘ এই উদ্ধার অভিযানজুড়ে পুরো উপজেলাবাসী শিশুটির জন্য প্রার্থনা করলেও, শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর খবরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ডেস্ক রিপোর্ট