চলতি বছরে দেশে অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এবং পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৫ জন নিখোঁজ বা অপহৃত হচ্ছেন, যাদের অর্ধেকই শিশু ও কিশোরী। নারী–পুরুষ মিলিয়ে মাসিক অপহরণের হার ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে শঙ্কা বাড়ছে।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের প্রথম ১১ মাসে অন্তত ১৬০ নারী ও কন্যাশিশু অপহৃত বা নিখোঁজ হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, একই সময়ে সারাদেশে মোট ১ হাজার ১৪টি অপহরণ মামলা হয়েছে, যা মাসিক গড়ে দাঁড়ায় ৯২টি—গত বছরের ৫৩.৫টির তুলনায় অনেক বেশি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এসব ঘটনার পেছনে মুক্তিপণ, প্রতিশোধ, আর্থিক লেনদেন, পারিবারিক বিরোধ, পরকীয়া, প্রেমের ফাঁদ, ধর্ষণের উদ্দেশ্য এবং মানব পাচারসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কারণ জড়িত।
নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নারী, শিশু ও কিশোরীদের একটি বড় অংশ গন্তব্য হয়ে উঠছে রাজধানী ও বড় শহরগুলোর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং স্পা সেন্টারের আড়ালে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র পতিতালয়। গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দেড় শ’র বেশি স্পা সেন্টারের আড়ালে যৌনব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অপহৃত বা প্রতারণার মাধ্যমে আনা নারী ও কিশোরীদের এসব কেন্দ্রে বিক্রি করা হয়, পরবর্তীতে আবার পাচার হয়ে যায় সীমান্তের বাইরে।
অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও বেড়েছে। গত ৭ নভেম্বর রাজধানীর দিয়াবাড়ী থেকে অপহৃত ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত রায়ের ঘটনার পর ১১ নভেম্বর তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবি করে ব্যর্থ হলে তাকে হত্যা করা হয়। এমন অনেক ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিরা জীবিত ফিরে আসেন না, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের ক্ষেত্রে সামাজিক ও মানসিক সংকট আরও গভীর হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন বলেন, নিখোঁজ নারী–শিশুর পেছনে অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক কারণ থাকে, পাশাপাশি মানব পাচার বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে। তিনি জানান, এসব ঘটনার তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত নভেম্বরে ১২ নারী ও কন্যাশিশু নিখোঁজ বা অপহৃত হয়েছেন। একই মাসে খুন হয়েছেন ৭৩ নারী-শিশু এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬১ জন, যার মধ্যে শিশু ও কিশোরীর সংখ্যাই উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই মামলা হয়নি বা কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ লাশ মিলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশে অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি: নারীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
- আপলোড সময় : ১১-১২-২০২৫ ০৯:৫৫:১১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১২-২০২৫ ০৯:৫৫:১১ পূর্বাহ্ন
ছবি সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট