রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার (২০) এবং তার স্বামী জামাল সিকদার রাব্বি (২৫)–কে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বুধবার সকালে চরকয়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হলে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন এলাকা থেকে নিখোঁজ রাব্বি হঠাৎ আয়েশাকে সঙ্গে নিয়ে নলছিটির বাড়িতে ফিরে আসেন এবং স্ত্রী পরিচয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। তবে গ্রামে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ সেখানে পৌঁছে আয়েশাকে শনাক্ত করে, যিনি মোহাম্মদপুরের জোড়া খুন মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, তারা এলাকায় ঘুরতে নয়, বরং আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছে। তার দাবি, বাসার কিছু স্বর্ণ ও মালামাল চুরি করে পালানোর সময় গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজ তাকে ধরে ফেলেন। একপর্যায়ে তিনি পুলিশে খবর দিতে গেলে ধারালো ছুরি দিয়ে আয়েশা তাকে আঘাত করেন। লায়লার চিৎকারে ড্রয়িংরুমে আসা তার মেয়ে নাফিসাকেও আয়েশা আঘাত করে হত্যা করে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে স্কুলড্রেস পরে পালিয়ে যায় সে।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আয়েশার স্বামী রাব্বিও স্বীকার করেছেন যে পরিকল্পিত হত্যার উদ্দেশ্য নয়, ধরা পড়ার ভয় থেকে আয়েশা ওই হামলা চালায়। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং তার কন্যার শরীরে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হামলার নৃশংসতা স্পষ্ট করে।
মোহাম্মদপুর জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আয়েশার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ৮ ডিসেম্বর শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়া (১৫) হত্যা হন।
মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ড: ঝালকাঠি থেকে গৃহকর্মী আয়েশা ও স্বামী রাব্বি গ্রেফতার
- আপলোড সময় : ১১-১২-২০২৫ ০৯:৪২:৪৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১২-২০২৫ ০৯:৪২:৪৪ পূর্বাহ্ন
ছবি সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট