ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে দুপুর সোয়া ১টার দিকে। শিশুটির নাম সাজিদ, তার বাড়ি ওই গ্রামেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির মা মাঠে ধানগাছের খড় সংগ্রহ করতে গেলে সাজিদ পাশে খেলতে খেলতে কাছাকাছি থাকা একটি সরু গর্তে পড়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে মাটির গভীরে ঢুকে পড়ে। এরপর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারচেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, জমিটির মালিক কছির উদ্দিন প্রায় এক বছর আগে সেখানে সেচ সুবিধার জন্য একটি সেমিডিপ নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নেন। সে সময় প্রায় ৩৫ ফুট পর্যন্ত বোরিং করা হলেও পানির সন্ধান না পাওয়ায় কাজটি অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রায় ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের ওই গর্তটি খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল, যা এই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খবর পেয়ে তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। শিশুটির কাছে অক্সিজেন পৌঁছানোর জন্য পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং গর্তের পাশে এক্সকেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি খনন করা হচ্ছে।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জানান, তাদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা করায় কিছু মাটি গর্তের ভেতরে পড়ে যায়, যা কাজে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করেছে। ক্যামেরা পাঠিয়ে শিশুটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে চারপাশে মানুষের কোলাহলের কারণে শিশুটির সাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পুরো কাজ শেষ করতে আরও তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট