দিনব্যাপী কর্মশালায় মানবিক আচরণ, পারিবারিক দায়িত্ববোধ, মাদক ও তামাকের ক্ষতি, স্বল্প আয়ে সংসার চালানো, সঞ্চয়ের কৌশল, ট্র্যাফিক আইন পালন ও ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন। প্রধান প্রশিক্ষক ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ রিকশাচালকদের নগরজীবনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সম্মান পেশায় নয়, মানুষের চিন্তা-চেতনা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তিনি সততা, দায়িত্বশীলতা ও পরিবারের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেন।
ইসলামে শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বক্তব্য দেন খতিব আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, কষ্টের উপার্জনে যে প্রশান্তি ও বরকত আছে, তা অনৈতিক আয়ের মাধ্যমে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া রিকশাচালকদের শারীরিক ঝুঁকি ও তা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল আলম সুমন, আর স্বল্প আয়ে সঞ্চয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাস্তব পরামর্শ দেন প্রকৌশলী সাব্বির আহম্মেদ।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্র্যাফিক আইন বিষয়ে আলোকপাত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জিয়াউর রহমান এবং বাড্ডা থানার ওসি হাবিবুর রহমান। কর্মশালায় অংশ নিয়ে অনেক রিকশাচালক আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, তাদের প্রতি এমন সম্মানজনক আয়োজন সাধারণত খুব কমই হয় এবং এই অভিজ্ঞতা তাদের পেশাগত আত্মমর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অর্ধ-দিবসীয় এই কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য নাস্তা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক রিকশাচালককে একটি টি-শার্ট ও উন্নতমানের শীতের হুডি উপহার দেয় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।
ডেস্ক রিপোর্ট