কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে নদী বন্দরের সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দিনভর সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন দেওয়া ও গাছ ফেলে বিক্ষোভ করেন জমির মালিক দাবি করা বাসিন্দারা। তবে এখনো সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়নি; বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, শনিবার থেকে উদ্ধার হওয়া ৬৩ একর নদী বন্দরের জমিতে পিলার স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে।
বাঁকখালী নদীকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার নদী বন্দরের আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআইডব্লিউটিএ চলতি বছরের ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে নদী বন্দরের প্রায় ৬৩ একর জমি অবৈধ দখলমুক্ত করে। সেই জমি পুনরায় দখল ঠেকাতে স্থায়ী সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের যৌথ জরিপ ম্যাপ অনুযায়ী কস্তুরাঘাট এলাকায় টেকসই সীমানা পিলার স্থাপন, সাইনবোর্ড বসানো ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ—এ তিনটি কাজ ৩ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
তবে কার্যক্রম শুরুর আগেই কস্তুরাঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল থেকে নারী-পুরুষ সড়ক অবরোধ করে, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং গাছ ফেলে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক সীমানা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পারুল নামে এক নারী বলেন, তারা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখানে কোনো স্থাপনা না করার আদেশ রয়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষ সেখানে পিলার ও কাঁটাতার বসাতে চাইছে, যা তারা মেনে নেবেন না। আরেক বিক্ষোভকারী সারা খাতুন বলেন, কষ্টার্জিত জমিতে বসতভিটার সুযোগ না পাওয়ায় তারা চরম হতাশ।
স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশ মানা হচ্ছে না এবং যথাযথ কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন, বৃহস্পতিবার যারা সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ করেছে, তাদের অনেকেরই বৈধ কাগজপত্র নেই এবং বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই করছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চলছে না; শুধু সেপ্টেম্বর মাসে উদ্ধার হওয়া অংশে সীমানা পিলার বসানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় অবৈধ দখলের চেষ্টা না হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট