বর্তমান সময়কে অনেকে ফিতনার যুগ হিসেবে বর্ণনা করছেন—একটি এমন পর্যায়, যেখানে সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। সমাজে বিভ্রান্তি, নৈতিক অবক্ষয়, সন্দেহ এবং ভ্রান্ত মতবাদের বিস্তার মানুষের ঈমান, চরিত্র ও পারিবারিক মূল্যবোধকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত নিরাপত্তা কেবল দৃঢ় ঈমানের মধ্যেই নিহিত।
ইসলামি শিক্ষায় উল্লেখ রয়েছে—ফিতনা নিঃশব্দে মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে ঈমানকে দুর্বল করে দেয়। কখনো শয়তানের কুমন্ত্রণায়, কখনো দুনিয়ার প্রলোভনে কিংবা খারাপ সঙ্গের মাধ্যমে মানুষ তার ঈমান হারিয়ে ফেলে, অথচ তা বুঝতেও পারে না।
কোরআনে বলা হয়েছে,
أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ
“আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝখানে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান।” (আনফাল ২৪)
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়—এ আয়াত হৃদয়ে ঈমান টিকিয়ে রাখতে আল্লাহর সাহায্যের গুরুত্ব তুলে ধরে।
ফিতনা যখন সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তা শুধু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কোরআনে সতর্ক করা হয়েছে—
وَاتَّقُوا فِتْنَةً لَا تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْكُمْ خَاصَّةً
“এক ফিতনাকে ভয় করো, যা শুধু জালিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।” (আনফাল ২৫)
হাদিসে রাসুল ﷺ ফিতনার প্রভাব তুলে ধরে বলেন—
“ফিতনা একের পর এক মানুষের হৃদয়ে উপস্থাপিত হবে; যে তা গ্রহণ করবে, তার হৃদয়ে কালো দাগ পড়বে।”
(সহিহ মুসলিম ১৪৪)
ধর্মীয় আলেমদের মতে, ফিতনার সময় ঈমান শক্ত রাখতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে জরুরি—আল্লাহর জিকিরে মনোযোগী থাকা, কোরআন তিলাওয়াত ও তা বোঝা, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, সঠিক আকিদায় অটল থাকা, ভালো সঙ্গ গ্রহণ করা এবং হৃদয়ের রোগ—অহংকার, রাগ, গিবত ও হিংসা—দূর করা।
এ সময়ে রাসুল ﷺ যে দোয়া নিয়মিত করতেন, তা মুসলমানদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়—
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
“হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনে স্থির করে দাও।”
ধর্মবিশারদদের মতে, ফিতনার যুগে সব বাহ্যিক সতর্কতার চেয়ে অধিক কার্যকর হচ্ছে হৃদয়ের ভেতরের দৃঢ় ঈমান। দৃঢ় ঈমানই মানুষকে বিভ্রান্তির অন্ধকারে সঠিক পথ দেখায় এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা করে।
ডেস্ক রিপোর্ট