ঘুম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট্ট মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত। প্রতিটি রাত আমাদের জন্য নতুনভাবে ফিরে তাকানোর সুযোগ—মন, আচরণ, সম্পর্ক ও আমলের মূল্যায়নের সময়। তাই ঘুমানোর আগে অন্তরকে হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত রেখে আল্লাহর কাছে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
কুরআনের আলোকে ক্ষমা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর রহমতশীল পরওয়ারদিগারের বান্দারা তারা—যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলে... তারা রাগ তৈরি হলে ক্ষমা করে দেয়।”
— সুরা আল-ফুরকান ২৫:৬৩
এছাড়া, আল্লাহ বলেন—
“যে ক্ষমা করে এবং সংশোধন করে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে।”
— সুরা আশ-শুরা ৪০
অর্থাৎ, মানুষ যদি নিজের অন্তরকে হিংসা ও ক্রোধ থেকে মুক্ত রাখে, আল্লাহ তার জন্য বিশেষ প্রতিদান স্থির করেন।
হাদিসে ঘুমানোর আগে ক্ষমার গুরুত্ব
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“যে ব্যক্তির অন্তরে কারও প্রতি বিদ্বেষ নেই, সে-ই হবে সর্বোত্তম মানুষ।”
(তিরমিজি)
এক সাহাবি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন—
“এই মানুষটি জান্নাতি।”
যখন কারণ জিজ্ঞেস করা হয়, উত্তর হয়—
“আমি ঘুমাতে যাওয়ার আগে কারও প্রতি বিদ্বেষ রাখি না এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত নিয়ে ঈর্ষা করি না।”
(মুসনাদ আহমদ)
অর্থাৎ ঘুমানোর আগে অন্তর পরিষ্কার রাখা জান্নাতি চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত।
ঘুমানোর আগে ক্ষমার উপকারিতা
> মানসিক প্রশান্তি: অন্তর হালকা হয়, স্ট্রেস কমে
> সামাজিক শান্তি: ঝগড়া ও বিবাদ দূর হয়
> আল্লাহর সন্তুষ্টি: ক্ষমাশীলতার প্রতিদান নিশ্চিত হয়
> ইবাদতে মনোযোগ: আত্মিক উন্নয়ন ও ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়
এভাবে ঘুমানোর আগে ক্ষমা করা মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সকল ক্ষেত্রে উপকার নিয়ে আসে। এটি শুধু ব্যক্তিগত শান্তি দেয় না, বরং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককেও মজবুত রাখে।
ডেস্ক রিপোর্ট