ইসলামে রাতের আমলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো ঘুমানোর আগে সূরা মুলক তিলাওয়াত করা। ৩০ আয়াতের এই সূরাটিকে রাসুলুল্লাহ ﷺ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন এবং এর পাঠকে মুমিনের নিরাপত্তা ও মুক্তির কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কুরআন ও সহিহ হাদিসে এ সূরার বহু ফজিলত বর্ণিত আছে।
কবরের শাস্তি থেকে রক্ষা:
সহিহ হাদিসে এসেছে—
“সূরা তাবারাক (সূরা মুলক) কবরের শাস্তি থেকে রক্ষা করে।”
— সুনান নাসায়ী
বিদ্বানদের মতে, এই সূরাটি রাতের অন্ধকারে আলো হয়ে পাঠকের সঙ্গে থাকে এবং কবরের প্রশ্ন, চাপ ও শাস্তি থেকে তাকে রক্ষা করে।
কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে:
রাসুল ﷺ বলেছেন—
“সূরা তাবারাক হলো রক্ষাকারী ও উদ্ধারকারী; এটি তার পাঠকের পক্ষে সুপারিশ করবে এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে।”
— তিরমিজি
অর্থাৎ, নিয়মিত পাঠের ফলে কিয়ামতের দিনে এটি ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার স্মরণ:
সূরা মুলকের শুরুতেই আল্লাহ বলেন—
“বরকতময় তিনি, যার হাতে সার্বভৌম ক্ষমতা; এবং তিনিই সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।” (আয়াত ১)
রাতে এই আয়াত পাঠ করলে মন-মানসিকতা পরিশুদ্ধ হয় এবং আল্লাহর শক্তি, দয়া ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে গভীর অনুভূতি জাগে।
দুশ্চিন্তা দূর করে প্রশান্তি আনে:
ধর্মীয় আলেমরা বলেন, ঘুমানোর আগে সূরা মুলকের তিলাওয়াত মানুষের মনে প্রশান্তি আনে, ভয় ও অশান্তি দূর করে, দিনভর মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়। অনেকেই বলেন—নিয়মিত পাঠ করলে ঘুম গভীর ও শান্তিময় হয়।
এটি কয়েক মিনিটের আমল হলেও এর উপকার দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক। রাতের নিরাপত্তা, কবরের সুরক্ষা এবং আখেরাতে মুক্তির বার্তা—সবকিছুই একটি সূরায়।
ডেস্ক রিপোর্ট