গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে রায় দেন। একই সঙ্গে আদালত সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন। তবে সংশোধনীর পুরো অংশ বাতিল করা হয়নি।
রায়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেয়, গণতন্ত্র বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ, যা বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। আদালত উল্লেখ করেন, দলীয় সরকারের অধীনে গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি, যার পরিণতিতে দেখা দেয় জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ রায়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। আদালত ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করেন, যা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।
রায়ে আরও বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করা হচ্ছে না; তবে জাতীয় সংসদ ভবিষ্যতে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারবে। এ অংশে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া আদালত গণভোট সংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করে এবং সংশোধনীর ৪৭ ধারা, ৭ ক, ৭ খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করে বাতিল করে।
ডেস্ক রিপোর্ট