খুলনায় অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগার। আজ মঙ্গলবার থেকে এই নতুন কারাগার কার্যক্রম শুরু করবে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী অক্টোবরের মধ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। নতুন কারাগার পরিচালনার জন্য প্রায় ৬০০ জন নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে। বর্তমানে শতবর্ষী পুরোনো কারাগার অতিরিক্ত জনাকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন কারাগার চালুর পর ধাপে ধাপে বন্দি স্থানান্তর করা হবে।
খুলনা সিটি বাইপাস এলাকায় ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত এই কমপ্লেক্সে প্রাথমিকভাবে দুই হাজার বন্দি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে চার হাজার বন্দি ধারণের সক্ষমতা রাখা হয়েছে। ৫২টি ভবনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা নতুন কারাগারটিতে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্তদের জন্য পৃথক ইউনিট, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আলাদা ব্যারাক এবং নারী বন্দিদের জন্য হাসপাতাল, কাজের জায়গা ও ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। এছাড়া একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল, লাইব্রেরি, স্কুল, ডাইনিং হল, নামাজের ঘর, লন্ড্রি ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের স্থানও রাখা হয়েছে।
১৯১২ সালে নির্মিত খুলনার পুরোনো কারাগার মূলত ৬৭৮ জনের ধারণক্ষমতার হলেও বর্তমানে সেখানে ১ হাজার ৪০০ এরও বেশি বন্দি রয়েছে। ভবনটি দীর্ঘদিন আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও ব্যবহার হয়ে আসছে। বন্দিদের অভিযোগ, যেকোনো সময় এটি ধসে পড়তে পারে।
গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারাগারের মূল কাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। এখন চূড়ান্ত রং করা ও ফিনিশিং কাজ চলছে। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর, আধুনিক ড্রেনেজ, সৌরবিদ্যুৎ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্মাণকাজে বিলম্ব হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ হতাশা প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে, এই আধুনিক কারাগার শুধু নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং বন্দিদের জন্য মানবিক পরিবেশও তৈরি করবে। ২০১১ সালে অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট ছিল ১৪৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত হয়ে বর্তমানে ২৮৮ কোটিতে পৌঁছেছে। সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানোর পর অবশেষে খুলনার নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার চালুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।