মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর দেশীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির ১৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় দেশের সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও তা ২০২৬ ২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনো বেশি। ফলে বিদ্যমান নীতি সুদহার আপাতত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয় মুদ্রানীতি কমিটি।
সভায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি দেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে সভায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এসব পরিস্থিতির প্রভাব এবং বিশেষ করে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই ভিত্তিক মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণের পর নীতি সুদহার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
এর আগে গত জুলাইয়ে নীতি সুদহার কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সিদ্ধান্তের পর এবার সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মুদ্রানীতি কমিটির সভায় ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ড. ফেরদৌসী নাহারসহ কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।