আগামী বছরের হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর), অথচ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩৯ হাজার ১২৬ জন। ফলে নির্ধারিত কোটার অর্ধেকও এখনো পূরণ হয়নি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিতদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২১৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৮ হাজার ৯০৮ জন রয়েছেন। সেই হিসাবে এখনো ৩৯ হাজার ৩৭৪ জনের নিবন্ধন বাকি। শেষ সময়ে নিবন্ধন বাড়াতে সংশ্লিষ্টরা তৎপর থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কোটা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। ফলে বুধবার ও বৃহস্পতিবার—এই দুই দিনে বড়সংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধন না করলে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কোটা অপূর্ণ থাকতে পারে।
এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী সংগ্রহের জন্য ২৮টি লিড এজেন্সির প্রত্যেকটির ন্যূনতম কোটা ২ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৭৩টি সমন্বয়কারী এজেন্সির ন্যূনতম কোটা রাখা হয়েছে ৪৫ জন।
তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগের কয়েক বছরেও অনেক এজেন্সি একজন হজযাত্রীও নিবন্ধন করাতে পারেনি। এরপরও নির্দিষ্টসংখ্যক হজযাত্রী সংগ্রহের শর্তে তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোকে অন্তত ৪৫ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে হবে। নির্ধারিত সংখ্যা পূরণে ব্যর্থ হলে চুক্তিতে উল্লেখিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার শর্ত রয়েছে।
লিড এজেন্সিগুলোর মধ্যেও অনেকের নিজস্ব নিবন্ধনের সংখ্যা কম। ‘সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামে একটি লিড এজেন্সি মঙ্গলবার পর্যন্ত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাত্র একজন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছে। তবে ওই এজেন্সির আওতাধীন সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে ১ হাজার ৭৩ জনের নিবন্ধন হয়েছে।
এ বিষয়ে সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, মন্ত্রণালয় তাঁকে নিরপেক্ষ মনে করায় লিড এজেন্সির দায়িত্ব দিয়েছে। শেষ দিন পর্যন্ত ২ হাজার হজযাত্রীর নিবন্ধন সম্পন্ন করার আশা করছেন তিনি।
এদিকে হজে যেতে আগ্রহীদের প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক্-নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এরপর ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য একজন হজযাত্রীকে মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দিতে হচ্ছে।