গাজীপুরে গ্যাস সংকটে শিল্প, অবৈধ সংযোগ নিয়ে অভিযোগ
কম চাপে ব্যাহত উৎপাদন, জেনারেটর চালাতে বাড়ছে খরচ
- আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৬ ১০:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৬ ১০:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় টেক্সটাইল, ডাইং, নিটিং ও পোশাক কারখানার বিভিন্ন ইউনিটে উৎপাদন কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক উদ্যোক্তাকে ডিজেলচালিত জেনারেটর ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
টঙ্গী, গাছা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, বোর্ডবাজার, পূবাইল, কালিয়াকৈর ও শ্রীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় ডাইং ও ফিনিশিং ইউনিটসহ গ্যাসনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শত শত কারখানা উৎপাদন সমস্যায় পড়েছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটির নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব সংযোগে নিম্নমানের পাইপ ও অনিরাপদ সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে তারা দাবি করছেন।
স্থানীয় এক বৈধ গ্রাহক বলেন, বৈধভাবে বিল পরিশোধ করেও গ্যাস সংকটে থাকতে হচ্ছে, অথচ অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীরা বিভিন্নভাবে সংযোগ চালু রাখছেন। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে এসব সংযোগ চালু রাখা হচ্ছে।
তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোস্তফা মাহবুব বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি পাইপ, রাইজারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে তিতাসের বিভিন্ন অভিযানে গাজীপুরসহ এর আওতাধীন এলাকায় বিপুলসংখ্যক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে এর প্রভাব পড়লে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তারা অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটে এখানকার কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।