ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাল দলিলের ভিত্তিতে অন্যের জমির অংশ দাবি করে মামলা করায় মো. মোশাররফ হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ৩১ আগস্ট দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ এ রায় দেন। একই সঙ্গে মোশাররফের করা মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১০ মার্চ সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মহিউদ্দিননগর গ্রামের মো. মোশাররফ হোসেন ২০ শতক জমির অংশ দাবি করে এবং কয়েকটি খতিয়ান তার ওপর বাধ্যকর নয় এমন ঘোষণার জন্য মামলা করেন। মামলায় একই গ্রামের নাজির হোসেনসহ মোট ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়।
মামলায় ১৯৩৩ সালের ১০ মে সম্পাদিত ২১০০ নম্বরের একটি সাফকবলা দলিল দাখিল করেন মোশাররফ। এতে ১১২ শতক জমির বিবরণ ছিল। দলিলের গ্রহীতা হিসেবে মোশাররফের বাবা আব্দুল মজিদ এবং দাতা হিসেবে নগরবাসী কৈবর্ত ও বনমালী কৈবর্তের নাম উল্লেখ করা হয়।
মামলার শুরু থেকেই বিবাদীপক্ষ ওই দলিলকে জাল ও ভিত্তিহীন দাবি করে আসছিল। পরে আদালত দলিলটির সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। এ জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সিআইডির সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দলিলের টিপসই ও লেখার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়।
সাক্ষ্য প্রমাণ, নথিপত্র, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত দলিলটিকে জাল, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত বলে মনে করেন। পরে সোমবার রায় ঘোষণার সময় মামলাটি খারিজ করা হয়।
আদালত একই সঙ্গে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করে বিবাদীদের হয়রানি করার অভিযোগে মোশাররফকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আগামী ২০ দিনের মধ্যে ওই অর্থ বিবাদীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় বাদী বিবাদী এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাফিক ইসলাম এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নায়েব নাজির মো. সোলায়মান মিয়া।