হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। একই দুর্যোগে চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তিব্বতে আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনা সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো অন্তত ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। তবে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় এবং বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটিতে ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। ভিডিওতে উদ্ধারকারীদের কাদা ও পাথরে ঢাকা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের সন্ধান করতে দেখা যায়।
চীনের পক্ষ থেকে তিব্বতে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটিতে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে দুর্গম পাহাড়ি পথ ও প্রবল স্রোতের নদী পেরিয়ে উদ্ধারকারী দল তিব্বতের দুর্যোগকবলিত গিরং বন্দরে পৌঁছায়। লাসার একটি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দলের প্রধান জৌ মিংছি চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে জানান, বন্দরের আশপাশের এলাকা ঘন কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে।
নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ গিরং বন্দরটি দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রেও বন্দরের বড় ধরনের ধ্বংসের তথ্য উঠে এসেছে। উদ্ধারকারী দল ড্রোন ও পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ব্যবহার করে পাহাড়ের ঢালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উদ্ধারকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছে।
আবহাওয়ার অনুকূল সময় কাজে লাগিয়ে নিখোঁজদের মধ্যে কেউ জীবিত আছেন কিনা, তা খুঁজে দেখার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা ও সড়ক পুনরায় চালুর কাজও চলছে। তবে ধসের পর তৈরি হওয়া হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় নতুন করে কাদা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, নেপালের কয়েক হাজার পরিবার খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি সহায়তা বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ নেপালের জন্য ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, নেপালের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ লাখ ইউরো দিচ্ছে। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দুই দেশের জনগণকে দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।