গণহত্যা স্মরণে উখিয়ায় লাখো রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন দাবিতে সমাবেশ
নবম বার্ষিকীতে আরকানে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের
- আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ০২:০০:৩৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ০২:০১:১৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০৯ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
নবম রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘরে ফেরার দাবিতে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাইন ইয়ারস গন থিংক টেন মিনিটস ফর রোহিঙ্গা প্রতিপাদ্যে মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা ইউসিআর এই সমাবেশের আয়োজন করে, যেখানে উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের লাখো রোহিঙ্গা অংশ নেন।
সমাবেশে ২০১৭ সালের গণহত্যায় নিহতদের স্মরণ করা হয় এবং রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, নয় বছর পার হলেও স্বজন হারানোর বেদনা, ঘরবাড়ি হারানোর কষ্ট এবং নিজ দেশে ফিরতে না পারার হতাশা এখনো রোহিঙ্গাদের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, বিশ্বের কাছে মাত্র দশ মিনিট সময় চাওয়া হচ্ছে, কারণ তারা ইতোমধ্যে নয়টি বছর পার করেছেন এবং নিজ দেশ আরকানে ফিরতে চান। এই দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আরকান তাদের আর তারা আরকানের, এই সত্যকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে।
ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বাংলাদেশের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তারা জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ এবং শুধু সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রত্যাবাসনের পর নিরাপত্তা, অধিকার, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার নিশ্চয়তাও দিতে হবে।
সমাবেশে বার্মিজ ভাষায় বক্তব্য দিয়ে ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, ভয় বা অনিশ্চয়তা ছাড়াই ফিরতে পারার মতো পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করতে হবে। সমাবেশের একপর্যায়ে দশ মিনিট ধরে রোহিঙ্গা ভাষায় শেষ হতা এক্কান ফিরতে চাই আরকান স্লোগানসহ নানা স্লোগানে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিবছরের মতো এবারও সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এপিবিএন তৎপর রয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।