ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এ বছর দেশটিতে তিন দফায় তীব্র তাপপ্রবাহ হানা দিয়েছে। প্রথম দফায় ১৭ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ৫ হাজার ৭৬৪ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ২ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১ হাজার ২৪৩ জন। এছাড়া মে মাসের শেষ দিকে হওয়া অকাল তাপদাহে প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় ৭৫ শতাংশই ঘটেছে ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণদের মধ্যে। তবে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের মধ্যেও গরমজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর উচ্চ হার লক্ষ্য করা গেছে। যদিও এই মৃত্যুগুলো সরাসরি তাপপ্রবাহের কারণে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বিশদ বিশ্লেষণ চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আগামী শরতে প্রকাশ করা হবে।
তাপপ্রবাহের স্থায়িত্বের দিক থেকে ২০২৬ সাল আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০২২ সালে ৩৩ দিন এবং ২০০৩ সালে ২২ দিন তাপপ্রবাহ স্থায়ী হয়েছিল। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ দিনে। গত ২৪ ও ২৫ জুন ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশটির ইতিহাসে নতুন জাতীয় রেকর্ড।
কেবল ফ্রান্স নয়, পুরো পশ্চিম ইউরোপই এবার ইতিহাসের উষ্ণতম সময় পার করছে। এই চরম আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে এবং বনাঞ্চলে লণ্ডভণ্ড করা দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে বলে মনে করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: এএফপি ও ফ্রান্স২৪