ঢাকা , রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ , ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
কেন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা? অক্টোবরে বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পেতে পারেন সরকারি চাকরিজীবীরা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই হতে হবে: তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা প্রকাশ এস জয়শঙ্করের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন জ্বালানি আজ দেশে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া দুই ঈদকে সরকারি ছুটির স্বীকৃতি ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের,হুতিদের অস্বীকার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের ‘হ্যালো ডিসি’ চালুর পরিকল্পনা সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়: 'অল-ইনক্লুসিভ প্যাকেজ' চালুর ঘোষণা মিরপুরের ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনেভা ক্যাম্পের পিচ্চি রাজা: সোর্স থেকে মাদক কারবারের শীর্ষে এআই অসৎ লোকের হাতে পড়লে ১০০ কোটি মানুষের প্রাণ যেতে পারে: বিল গেটস জানুয়ারির অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাকৃবির ১০ তলা হলে লিফট নেই, না খেয়েই দিন কাটছে ছাত্রীদের র‌্যাবের পর এসআরবি, বদলেছে নাম ও আইনি কাঠামো তারেক রহমান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক জাতিসংঘে শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের সুপার এল নিনো কি, কিভাবে এটা আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে?

কেন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা?

যুদ্ধের আশঙ্কা কম হলেও ট্রাম্পের নীতিতে উদ্বিগ্ন অটোয়া, সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় তৈরি হচ্ছে সামরিক পরিকল্পনা।
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৬ ১১:০২:০৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-১০-২০২৬ ১১:২৪:৪০ পূর্বাহ্ন
  • ৪ মিনিট পড়ার সময়
  • ২৩ বার পঠিত
কেন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা? ছবি— সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা অত্যন্ত কম হলেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টিকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও অটোয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে। ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বারবার বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলায় একটি সামরিক মহড়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে কানাডা।

২০২৫ সালে ট্রাম্প অবশ্য কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত কম বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতিই অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কানাডার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউ কাজ করেননি।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশই মনে করেন, কানাডায় সরাসরি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা খুবই কম। দুই দেশই ন্যাটোর সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সহযোগিতায় যুক্ত। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কানাডীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটক করার ঘটনার পর পরিচালিত এক লেজার জরিপে দেখা যায়, ৩০ শতাংশের বেশি কানাডীয় মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কানাডার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটসের মতে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের ধারণা প্রায় অকল্পনীয়। ৩৪ বছরের সামরিক জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা দেখেননি। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে দুই দেশ পরস্পরের প্রতিরক্ষায় সহযোগিতার বাধ্যবাধকতায় রয়েছে। পাশাপাশি নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড বা নোরাডের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার আকাশসীমা ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় যৌথভাবে কাজ করে তারা।

এমন ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে তা সরাসরি স্থল হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন কোটস। বরং সাইবার হামলার মতো পরোক্ষ ও গোপন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের ইতিহাস সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। কানাডিয়ান ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক টিম ফোরানের মতে, মার্কিন সম্প্রসারণবাদ মোকাবিলার ইতিহাস কানাডার জাতীয় পরিচয় গঠনের অন্যতম ভিত্তি।

১৭৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ব্রিটিশ উত্তর আমেরিকার উপনিবেশগুলোতে হামলা চালিয়ে মন্ট্রিয়ল দখল করে এবং কুইবেক সিটি দখলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। পরবর্তী সময়ে ১৮১২ সালের যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী আপার কানাডা, লোয়ার কানাডা ও সামুদ্রিক উপনিবেশগুলোতে একাধিকবার আক্রমণ চালায়। যুদ্ধটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হলেও পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস পুড়িয়ে দেয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে কানাডার উদ্বেগ ছিল। সে সময় সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে কানাডীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পর্যটকের পরিচয়ে সীমান্তবর্তী মার্কিন শহরগুলোতে গিয়ে সেতু, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ছবি সংগ্রহ করতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সম্পর্কেও তথ্য নিতেন তাঁরা। কানাডিয়ান ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক অ্যান্ড্রু বার্চের মতে, যুদ্ধের আশঙ্কা কম হলেও সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে কানাডার বর্তমান প্রস্তুতিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ শ্মিট। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা কানাডাকে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সুবিধা দিলেও চরম পরিস্থিতিতে একই সহযোগিতা মার্কিন বাহিনীকে কানাডার প্রতিরক্ষা কাঠামো সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করতে পারে।

কানাডার সামরিক বাহিনীর একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির মডেল, যা গ্লোব অ্যান্ড মেইল প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এক সপ্তাহের মধ্যেই কানাডার কৌশলগত অবস্থানগুলো বিপর্যস্ত হতে পারে। সামরিক জনবল ও সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকা কানাডীয় বাহিনীকে তখন গেরিলা কৌশলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো মিত্রদের কাছে সামরিক সহায়তা চাইতে পারে অটোয়া। শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে এমন পূর্ণাঙ্গ সামরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কানাডার স্থল প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন কোটস। বর্তমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সেই ঘাটতি পূরণে দেশটি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। কানাডার প্রতিরক্ষা প্রধানও সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ ৩ লাখ স্বল্প প্রশিক্ষিত বেসামরিক নাগরিককে সামরিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে।

তবে সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও কানাডার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ওয়াশিংটনের জন্য সহজ হবে না বলে মনে করেন শ্মিট। তাঁর মতে, এমন যুদ্ধের রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতা নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যেই আপত্তি তৈরি হতে পারে। হামলার নির্দেশ দেওয়া হলে অনেক মার্কিন কর্মকর্তা পদত্যাগও করতে পারেন। কারণ দুই দেশের সেনাসদস্যরা নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেন এবং তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা রয়েছে।

শ্মিটের ধারণা, সম্পর্কের অবনতি যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার তেল, খনিজসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ ধরনের অভিযান চলতি বছরের ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অনুরূপ হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

তবে সামরিক সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলেও কানাডা সহজে পরাজয় মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন এই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। তাঁর মতে, সামগ্রিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও তুলনামূলক সামরিক সক্ষমতার বিচারে কানাডীয় বাহিনী শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা এখনো অত্যন্ত কম। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার কারণে একসময় অকল্পনীয় বলে বিবেচিত সামরিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে কানাডাকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৯

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।