স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার আবেদন খারিজ করল এলাহাবাদ
হিজাব পরা ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয় এবং প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পছন্দে বদলানোর অধিকার নেই বলে জানাল আদালত
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ১১:৫৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ১১:৫৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৩২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে এক ছাত্রীর করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, হিজাব পরা ইসলামের এমন কোনো অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয়, যা না পরলে ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধি ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তনের অধিকার শিক্ষার্থীর নেই বলেও জানিয়েছে আদালত।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী সম্প্রতি মাধ্যমিক পাস করার পর একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চেয়ে তিনি মায়ের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে মাথায় হিজাব পরার অনুমতি দিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, ইসলামে হিজাব পরা একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন এবং ওই ছাত্রী ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই হিজাব পরে স্কুলে আসছেন।
বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, বিভিন্ন শ্রেণিতে ওই ছাত্রীর তোলা ছবি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে তাকে ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রীকে হিজাব পরতে দেখা যায়নি। এমনকি একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য ছাত্রীরাও হিজাব পরেনি বলে আদালত উল্লেখ করেছে।
আদালত আরও বলেছে, হিজাব পরাকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে দাবি করার পক্ষে আবেদনে সুনির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি দেওয়া হয়নি। এ ধরনের বিষয়ে বিভিন্ন হাইকোর্টের রায়ের কথাও উল্লেখ করেছে বেঞ্চ।
পোশাকবিধি নিয়ে আদালত বলেছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম যদি ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর করা হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পোশাকবিধি বাস্তবায়নের অধিকার রাখে।
নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক হলে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে তার সঙ্গে হিজাব যুক্ত করার আলাদা আইনি অধিকার কোনো শিক্ষার্থীর নেই বলেও স্পষ্ট করেছে বেঞ্চ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, একই ইউনিফর্ম যখন সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য, তখন ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কাউকে পোশাক পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার অনুমতি দিলে ইউনিফর্মের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি নির্ধারণের ক্ষমতাও প্রতিষ্ঠানের বদলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, প্রতিষ্ঠানটি একটি বেসরকারি ও নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়াশোনা করে এবং সবার জন্য একই পোশাকবিধি কার্যকর রয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ইউনিফর্মের অভিন্নতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে দাবি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
উত্তর প্রদেশ সরকার ও সিবিএসইও ওই ছাত্রীর আবেদনের বিরোধিতা করে। গত ২১ আগস্ট দেওয়া রায়ে শেষ পর্যন্ত আবেদনটি খারিজ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।