কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসি’-র জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউন্সের মতে, যেসব দেশ ইরানের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে চীনও রয়েছে, যারা গত বছর ইরানি অপরিশোধিত তেলের সর্ববৃহৎ ক্রেতা ছিল।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে এরিকা ডাউন্স বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন যদি ইরানি তেল পরিবহনের সাথে জড়িত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, তবে তা মূলত একটি হিসাব-নিকাশের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়: ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে ওইসব চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার লাভ এবং এর পেছনে জড়িয়ে থাকা ক্ষতির দিকটি পরিমাপ করছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে চীন। যার মধ্যে বিরল খনিজ উপাদান রফতানি সীমিত করার পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি জানান, চীন কর্তৃক ইরানি তেল আমদানি কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে চীনা কাস্টমসের তথ্যে এই তেল মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত করা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পরও চীন ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি চালিয়ে গেছে। কেবল এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ আরোপ করলে এই সরবরাহের গতি কিছুটা ধীর হয়।
ডাউন্স জানান, হরমুজ প্রণালির বাইরে জলসীমায় এখনও বেশ কিছু ইরানি তেলের জাহাজ অবস্থান করছে, যা চীনে সরবরাহ করা সম্ভব।
আমি এই মুহূর্তে চীন তাদের ইরানি তেল আমদানি একদম শূন্যে নামিয়ে আনবে বলে মনে করেন না ডাউন্স।
তিনি জানান, এর মূল কারণ হলো-ইরান থেকে চীনে তেল পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে, প্রতিবার নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেই তারা সেটির একটি বিকল্প পথ খুঁজে বের করার প্রবণতা দেখায়।’
সূত্র: আল-জাজিরা।