ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সরকার। দেশের বাকি থাকা সব এলাকা পুনর্দখল এবং পুরো দেশে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল আলিমি।
রোববার (৪ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সম্প্রতি হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এলো। হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পরই সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
হুতিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা। গোষ্ঠীটির দাবি, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ৫০টি বিমান হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে সৌদি আরব এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী অভিযান চালিয়ে আসছে। উত্তরাঞ্চলের প্রধান ঘাঁটি সা’দাসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চলছে।
তবে কয়েকটি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ইরান-সমর্থিত হুতিরা বিভিন্ন এলাকায় অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে। সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র তাইজ শহর, যা এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রোববার হুতিরা ইয়েমেনের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনের সঙ্গে তাইজের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ কেটে দিয়েছে বলে জানা গেছে। তিনটি ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, হুতিরা ওই এলাকা ও সরবরাহপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় তাইজ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।