ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাওনিয়ার বেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি ও পিটিশন কমিটির সভাপতি হলেন স্পিকার আরব আমিরাতে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে জাতিসংঘে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ভারতের তিন আন্তঃদেশীয় ট্রেন ফের চালুর আলোচনা সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা ৫০ শতাংশ কমাল সরকার সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, জানাল হুতি গণমাধ্যম মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আইআরজিসির দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা এআইয়ের ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাড়ছে অনলাইন প্রতারণা বিদ্যুৎ নিয়ে কটূক্তিতে গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহর জামিন নামঞ্জুর এক ঠিকানায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি তথ্য নিয়ে এলো ‘অ্যাডমিশন হাব’ নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের এমডি কারাগারে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর জবার দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকারের গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার রোহিঙ্গা সংকট এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে বিপজ্জনক ধোঁয়াশায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিলের সুপারিশ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে মন্ত্রী আইসিইউতে : আসিফ মাহমুদ আফগানিস্তানে এতিম, বিধবার মাঝে সাড়ে ১২ বিলিয়ন আফগানি বিতরণ

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯, নতুন ঝুঁকি

নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষে নদী আটকে নতুন হ্রদ সৃষ্টির ফলে নতুন আশঙ্কার তৈরি হয়েছে।
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০৯:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০৯:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন
  • ৪ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৯৪ বার পঠিত
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯, নতুন ঝুঁকি ছবি সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিতদের উদ্ধারের আশা কমছে। একই সঙ্গে হিমালয়ের উৎস এলাকায় পানি জমে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
 
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও পার্শ্ববর্তী তিব্বতে এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার সকালে হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ি নদীগুলোতে নেমে আসার পর এই বিপর্যয় ঘটে।
 
বন্যার পানির স্রোত গ্রাম ও উপত্যকার ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু ধ্বংস করেছে। কাঠমান্ডু থেকে তিব্বতের লাসা যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের পাশাপাশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের ব্যবহৃত এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক।
 
নেপালের কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা নদীর স্রোতে ভেসে সমতলে চলে আসা বহু মরদেহও উদ্ধার করেছেন।
 
বৃহস্পতিবার রাশুওয়া শহর থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের একজন দিবগা তামাং। আরও তিনজনের সঙ্গে তাকে হেলিকপ্টারে করে নুওয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
 
তামাং বলেন, ‘আমাদের সব মানুষ চলে গেছে। তারা মারা গেছে। আমার জন্য অপেক্ষা করার মতো কেউ নেই। সবকিছু এবং সবাই চলে গেছে। শেষ।’
 
তবে বন্যার পানি ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার এলাকায় ধ্বংসাবশেষে ভোতেকোশি নদীর প্রবাহ আটকে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানি বাড়ছে এবং যেকোনো সময় তা উপচে পড়তে পারে।
 
সীমান্তের অপর পাশে চীন জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি—যা প্রায় এক হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান—ইতোমধ্যে পানি জমে থাকা একটি হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। এতে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
 
চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জলবিদ্যা বিভাগের গবেষক ঝু জিনফেং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, ‘পানির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে, একই সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।’
 
সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভয়াবহ স্রোত: 
 
চীনের তিব্বত অংশে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গিয়েরং সীমান্ত চৌকিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের সড়ক থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছিল।
 
চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ নেটওয়ার্কে গিয়েরং সীমান্ত বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গত এক দশকে সেখানে লজিস্টিকস এলাকা ও পার্কিংয়ের মতো অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
 
বুধবার ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্ত চৌকি এলাকায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে ভরা ভয়াবহ পানির স্রোত বিভিন্ন স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করা মানুষও এতে আটকা পড়েন।
 
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিয়েরং কাউন্টিতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। চীনের অংশে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার বিকেলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং দুর্যোগকবলিত গিয়েরং এলাকা পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তার এই সফর থেকে বোঝা যায়, বেইজিং ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।
 
‘বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়েছিল’: 
 
নেপালের দেবীঘাটে বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া জনক বাহাদুর বৃহস্পতিবার বলেন, ‘বন্যাটি হঠাৎ করে এসেছিল এবং বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়েছিল। দূর থেকে নদীটিকে ছোট মনে হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ সেটি উপচে পড়তে শুরু করে এবং সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।’
 
নেপালে নিখোঁজ বিদেশিরা দুই ডজনেরও বেশি দেশের নাগরিক। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ নেপালে সহায়তা ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।
 
যুক্তরাষ্ট্রও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এত শক্তিশালী ও ভালোভাবে নির্মিত ভবনকে চোখের পলকে ‘কাঠির মতো’ ভেসে যেতে এর আগে কেউ দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা পাঠাচ্ছে এবং নেপালের নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সহযোগিতা দেওয়া হবে।
 
এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিখোঁজদের স্বজনেরা তাদের প্রিয়জনদের খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন। মালয়েশিয়া থেকে নেপাল-তিব্বতে হিন্দু তীর্থযাত্রায় যাওয়া ভেন্নিলার বোন বাসন্তী মুনিয়ান্ডি জানান, নেপাল থেকে তিব্বতে প্রবেশের পর বোনের সঙ্গে তার সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল।
 
বাসন্তী বলেন, ‘আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি। আমার বোন আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই সে ফিরে আসুক। তাকে ছাড়া আমার আর কেউ নেই। আমি শুধু চাই সে বাড়ি ফিরে আসুক এবং নিরাপদে থাকুক।’
 
চিতওয়ান জেলার প্রশাসক গণেশ আরিয়াল জানান, তাদের জেলায় নদী ব্যবস্থা থেকে ১০৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশূলি অঞ্চল থেকে সমতলের দিকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ান জেলা।
 
সব মরদেহ রাখার মতো জায়গা স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে না থাকায় জেলা প্রশাসন তাঁবু স্থাপন করছে। স্বজনেরা যাতে মরদেহ শনাক্ত করে নিয়ে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
 
বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত নুওয়াকোট পরিদর্শন করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
 
শাহ বলেন, ‘রাষ্ট্রের সব সংস্থা পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। এখন আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার প্রতিটি নাগরিকের জীবন রক্ষা, নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া।’
 
পাঁচ মাস বয়সী শাহ সরকারের জন্য এই দুর্যোগ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এমন বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা রয়েছেন। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যুর পরও দেশটি বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।