ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুত্রবধূর সঙ্গে অভিমান করে চিরকুট লিখে কীটনাশক পান করা জসিম উদ্দিন নামে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ভোরে সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের অষ্টগ্রামে তিনি কীটনাশক পান করেন। জসিম উদ্দিন অষ্টগ্রামের বলা গাজী বাড়ির মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। অভাবের কারণে তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, পুত্রবধূ মাছুমার সঙ্গে অভিমান করে ভোর ৪টার দিকে জসিম উদ্দিন স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে কীটনাশক পান করেন। পরে তিনি মসজিদের বারান্দায় শুয়ে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে মসজিদের লোকজন তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, কীটনাশক পান করার আগে জসিম উদ্দিন একটি চিরকুট লিখে যান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি হতভাগা, ছেলের বউয়ের জ্বালায় মরিলাম।’
নিহতের ছেলে হাসান মিয়া অভিযোগ করেন, তার বাবা সহজ সরল মানুষ ছিলেন। পুত্রবধূর সঙ্গে অভিমান এবং তার তুচ্ছ তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার দাবি, পুত্রবধূ কখনো তার বাবাকে যথাযথ সম্মান করতেন না। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার স্ত্রী বাড়ি থেকে চলে গেছেন বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হাসান মিয়া।
সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুত্রবধূর সঙ্গে অভিমান করে ওই বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুত্রবধূ পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।