ঢাকার কেরানীগঞ্জে সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই ২০টির বেশি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রোগী দেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেরানীগঞ্জে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ মানুষের বসবাস। সরকারি নথি অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিকের সংখ্যা ১৩৪টি। তবে এর বাইরে অনুমোদনহীন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জরাজীর্ণ একটি ভবনে প্রায় দুই বছর ধরে চলছে ‘বেস্ট লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। প্রতিষ্ঠানটির ফিজিওথেরাপি ও ডেন্টাল বিভাগ থাকলেও সেখানে একজনই রিসিপশনিস্ট, টেকনোলজিস্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এক্সরে কক্ষের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফরহাদউজ্জামান জানান, তারা এখনো অনুমোদন পাননি এবং এক মাসের মধ্যে অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন। আব্দুল্লাহপুর বাজারের নারী শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কিছুদিন চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়। ঘাটারচরের ‘বিডি হেল’-এ অনুমোদন ছাড়াই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ফিজিওথেরাপি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে ম্যানেজারই রিসিপশনিস্টের দায়িত্ব পালন করছেন এবং ফিজিওথেরাপি অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।
প্রতিষ্ঠানটিতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল হাসপাতালও প্রায় তিন বছর ধরে অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সময়মতো নবায়ন করা হয়নি। এর মধ্যে এসপিবিকে হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সর্বশেষ নবায়ন ২০২১ সালে, নয়নতার আই হাসপাতালের ২০২২ সালে, শান্তা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের ২০২৩ সালে, জামিল হসপিটালের ২০২৪ সালে এবং জামিল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২০২৫ সালে হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. জাকারিয়া মাহমুদ বলেন, তিনি এমন অভিযোগ প্রথমবার শুনেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আহমেদ বলেন, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি না থাকায় চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
কেরানীগঞ্জে অনুমোদনহীন ২০টির বেশি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক
লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভিযোগ, রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০২:০৬:২৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০৭:২৮:৩৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩০ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর