চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ঝুঁকিতে বাঁধ, আতঙ্কে হাজার পরিবার
তীব্র স্রোতে ২০০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত; ঝুঁকিতে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০৭:৩৬:২৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০৭:৩৬:২৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোতে তীররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিয়েছে। কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারী পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকায় নদীর স্রোত বাঁধ ঘেঁষে প্রবাহিত হওয়ায় চার দফায় প্রায় ২০০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত জুলাই থেকে ওই এলাকায় বাঁধের পাশ দিয়ে তীব্র স্রোত বইছে। কাঁচকোল বাজারের উত্তরে সড়কটারি এলাকায় জুলাই মাসে ১২০ মিটার অংশে ধস নামে। এরপর গত তিন সপ্তাহে কাঁচকোল বাজারের কাছে দুটি স্থান এবং কেডি ওয়ারি স্কুলসংলগ্ন ক্রসবাঁধের মাথায় প্রায় ৮০ মিটার অংশের কংক্রিটের ব্লক ধসে পড়ে।
পাউবো জানিয়েছে, বাঁধের পাশে নদীর গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিস্রোত তৈরি হওয়ায় ভাঙন তীব্র হচ্ছে। জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও নদীর অতিরিক্ত গভীরতার কারণে তা পর্যাপ্ত ফল দিচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নদীর পূর্বদিকে ভট্রিভিটা ও চর বড়ভিটা এলাকায় চর জেগে ওঠায় ব্রহ্মপুত্রের মূল স্রোত বাঁধের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১১টি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে শত শত একর আবাদি জমি, তিনটি বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা ও বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি চিলমারী উপজেলা সদরেও পানি ঢোকার শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাঁধের দুই পাশে আরও প্রায় ৩০০ পরিবার বসবাস করছে। তাদের অনেকেই আগে নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। বাঁধ রক্ষায় নদীর জেগে ওঠা চরসংলগ্ন এলাকায় ড্রেজিং করে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, ২০১৮ সালে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় কংক্রিটের ব্লক দিয়ে বাঁধ সুরক্ষিত করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার ও খনন না হওয়ায় বাঁধের বিভিন্ন অংশ আবার ঝুঁকিতে পড়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, কাঁচকোল এলাকায় নদীর গভীরতা কোনো কোনো স্থানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫ মিটারের বেশি। তীর ঘেঁষে অতিরিক্ত গভীরতার কারণে বারবার ধস নামছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কারের জন্য ডিপিপি বা প্রকল্প প্রস্তাবও জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে শুকনো মৌসুমে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর