শিশুকে খাওয়ানোর সময় মোবাইল ফোন, ট্যাব বা টেলিভিশনের মতো ডিভাইস ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ শিশুর স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে অনেক অভিভাবক শিশুকে সহজে খাওয়ানোর জন্য ভিডিও, কার্টুন বা মোবাইল গেমের সহায়তা নেন। এতে শিশু খাবার খেয়ে ফেললেও সে কী খাচ্ছে বা কতটুকু খাচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকে না। দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
খাওয়ার সময় শিশু যেন খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন সম্পর্কে ধারণা পায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্ক্রিনের দিকে মনোযোগ থাকলে শিশুর মস্তিষ্ক খাবারের পরিবর্তে পর্দার বিষয়বস্তুর দিকে বেশি মনোযোগ দেয়।
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা শিশুদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা, আচরণগত পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত স্ক্রিননির্ভরতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগও কমে যেতে পারে।
তাই খাওয়ার সময় পারিবারিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়া, শিশুর সঙ্গে কথা বলা এবং তাকে ধীরে ধীরে নিজে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করা উচিত।
এছাড়া শিশুর বয়স উপযোগী খাবার নির্বাচন, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দেওয়া এবং খাবারের প্রতি ইতিবাচক আগ্রহ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিশু কোনো খাবার খেতে না চাইলে জোর করার পরিবর্তে ধৈর্যের সঙ্গে তাকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।