শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ৩, আহত ২৩
কারাগারে সংঘর্ষে আরও ২৩ জন আহত; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ।
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৮-০৮-২০২৬ ১১:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৮-২০২৬ ১১:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে শ্রীলঙ্কায় একাধিক কারাগারে বড় ধরনের সহিংসতা ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনটি কারাগারে পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। পৃথক এসব ঘটনায় অন্তত তিনজন বন্দি নিহত এবং আরও ২৩ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন জননিরাপত্তামন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
মন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানী কলম্বোর নিউ ম্যাগাজিন কারাগারে প্রায় ৪০ জন বন্দি সেল ভেঙে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে এক বন্দি নিহত হন।
এরপর শুক্রবার সকালে রাজধানী থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে কুরুউইটা কারাগারে নতুন করে দাঙ্গা শুরু হয়। সেখানে সংঘর্ষে আরও দুই বন্দির মৃত্যু হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন।
এদিকে রাজধানী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর নেগম্বোর একটি উন্মুক্ত কারাগারেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে বেশ কিছু বন্দি কারাগারের ছাদ ও খোলা মাঠে চলে আসেন। পরে দাঙ্গা দমন পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণে এনে নিজ নিজ ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেয়।
জননিরাপত্তামন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা বলেছেন, কারাগারে সহিংসতার পেছনে মাদক ব্যবসায়ী ও প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী চক্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকতে পারে। তবে এর সঙ্গে কোনো পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে সরকার।
শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোর অতিরিক্ত ভিড় পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্দিদের অধিকারবিষয়ক কমিটির সভাপতি সেনাকা পেরেরা জানিয়েছেন, দেশটির কারাগারগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ বন্দি গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন।
দেশটির বিচারমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রায় ১০ হাজার বন্দির ধারণক্ষমতার বিপরীতে শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা ৩৯ হাজারের বেশি। তাদের বড় একটি অংশ মাদকসংক্রান্ত মামলার বিচারাধীন আসামি।
কারাগারে বন্দির চাপ কমাতে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উচ্চ আদালতের বিচারকদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে সরকার।
তবে একসঙ্গে একাধিক কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় দেশটির কারা নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত বন্দির সমস্যা নতুন করে সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।