শীতের সবজিতে দাম কমলেও চড়া মাছ-মাংসের বাজার
রাজধানীতে বাড়ছে মৌসুমি সবজির সরবরাহ, কয়েকটি পণ্যে এখনো স্বস্তি নেই ক্রেতাদের
- আপলোড সময় : ০৬-১১-২০২৬ ০২:৫৫:২০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-১১-২০২৬ ০২:৫৫:২০ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৪২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতের আগাম সবজি। সরবরাহ বাড়ায় শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। তবে সবজির বাজারে স্বস্তি এখনো সীমিত। কয়েকটি সবজি বিক্রি হচ্ছে বেশ চড়া দামে। অন্যদিকে মাছ ও মাংসের দাম আগের সপ্তাহের মতোই থাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের বাজার খরচে বিশেষ পরিবর্তন আসেনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা ও রামপুরা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারগুলোতে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আকার অনুযায়ী ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস। মুলার দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। সাধারণ বেগুনের দাম জাত ও আকারভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকা।
তবে গোল বেগুনের কেজি কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ১২০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো ও কাঁচামরিচ। গাজরের কেজি ১৪০ টাকা। দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুগদা বাসার টাওয়ার বাজারের বিক্রেতা মো. ইমন মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ছে। এ কারণে কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় কমেছে। সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
রামপুরা বাজারের বিক্রেতা কামরুল ভূঁইয়া জানান, নতুন সবজি বাজারে আসায় ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামও কিছুটা কমেছে। আকার অনুযায়ী প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি হিসেবে এসব সবজির দাম প্রায় ৬০ টাকা।
মালিবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী খন্দকার ওবায়দুল্লাহ বলেন, এ সপ্তাহে বাজারে নতুন নতুন সবজি পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটির দাম আগের তুলনায় কমলেও কিছু সবজির দাম এখনো অনেক বেশি। মাছ-মাংসের বাজারেও কোনো স্বস্তি নেই।
সবজির তুলনায় মাছের বাজারে দামের পরিবর্তন আরও কম। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। বাজারে প্রতি কেজি রুই ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে।
ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও মান অনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। বড় আকারের কিছু ইলিশের দাম বাজারভেদে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
মাংসের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ৫ নভেম্বর প্রকাশিত খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদনেও নিত্যপণ্যের দামে মিশ্র প্রবণতা উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে।
অন্যদিকে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম তেল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের পর্যায়েই রয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।