বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সময় স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের দামও এখন ২০০ টাকার ওপরে। বর্তমানে জীবিত পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকায় এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই, কাতলা, মৃগেল, পোয়া ও অন্যান্য চাষের মাছের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে রূপচাঁদা, বড় শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে প্রতি কেজিতে এক হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, বাজারে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আকার ও মানভেদে ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, সাদা রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ও মাছের আকারভেদে এসব দামে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাছের পাশাপাশি ডিমের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। তবে প্রতিদিন কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে।
বাজারে মাছ কিনতে আসা রুবেল আহমেদ বলেন, প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তার মতে, বর্তমান দামে মাছ অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট