শুক্রবার ৩১ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ১৪৮ ফ্লাইটের ব্যাগেজ সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকালে এক নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় তিনটি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে সেগুলো তল্লাশি করে মন্ড ব্র্যান্ডের ৩৭০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়।
একই সময়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকেও আরও ১১১ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ৪৮১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। এসব সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা হলেও ৬২১ শতাংশ টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্সসহ শুল্ক ও কর যোগ করলে এর মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা।
অভিযানের সময় একই ফ্লাইটের যাত্রী মো. তাজুল ইসলামের হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি চলতি বছরের ১০ জুন শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার দেশে এনেছিলেন। ব্যাগেজ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী একই বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত স্বর্ণালংকার শুল্কমুক্তভাবে আনার সুযোগ না থাকায় নতুন করে আনা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৫ টাকা এবং শুল্ক ও করসহ এর মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া অভিযানে ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। একই সময়ে কলকাতা থেকে আসা বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১১ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এসব মদের বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা হলেও শুল্ক ও করসহ এর মোট মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ হওয়া বিদেশি সিগারেটের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা, নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিমের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বিদেশি মদের মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে শুল্ক ও করসহ জব্দ করা পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্যের বিষয়ে কাস্টমস আইন, ব্যাগেজ বিধিমালা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চোরাচালান, শুল্ক ও কর ফাঁকি এবং নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডেস্ক রিপোর্ট