স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বিশ্বনাথ-রামপাশা-বৈরাগীবাজার-সিংগেরকাছ-লামাটুকের বাজার পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য ২০২৩ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
এর মধ্যে রামপাশা-বৈরাগীবাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক মেরামতে ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয় এবং কাজের দায়িত্ব পায় শাওন ট্রেডার্স। বৈরাগীবাজার-সিংগেরকাছ ৪ কিলোমিটার অংশে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজের দায়িত্ব পায় এমএস বিল্ডার্স। সিংগেরকাছ-লামাটুকের বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স জামিল হাসনাত এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রামপাশা-বৈরাগীবাজার অংশের কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলন ও উদ্বোধন করা হলেও উদ্বোধনের আগেই সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। অন্য দুই অংশের অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং পথচারীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনীয় মান বজায় না রেখে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও মাটির ওপর কার্পেটিং করায় অল্প সময়েই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রামপাশা-বৈরাগীবাজার-সিংগেরকাছ অংশের কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী অনুপ প্রামাণিক এবং সিংগেরকাছ-লামাটুকের বাজার অংশের দায়িত্বে ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী সবুজ চক্রবর্তী।
দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান বলেন, "একাধিকবার ঠিকাদারকে সঠিকভাবে কাজ করার অনুরোধ করা হলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি।"
সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবরক আলী অভিযোগ করেন, "সড়ক মেরামতের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। আমরা পুনরায় মানসম্মতভাবে রাস্তা মেরামতের দাবি জানাই।"
জামায়াত নেতা বাবুল আহমদ বলেন, "জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও কিছু ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে বিল তুলে নিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
বৈরাগীবাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদ আলী বলেন, "সড়ক মেরামতে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। কাজ চলাকালে আপত্তি জানানো হলেও ঠিকাদারপক্ষ তা আমলে নেয়নি।"
অভিযোগের বিষয়ে এমএস বিল্ডার্সের আব্দুস সামাদ ও শাওন ট্রেডার্সের প্রতিনিধি চঞ্চল পাল বলেন, "যেখানে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে পুনরায় মেরামত করা হবে।"
সিলেট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন খান বলেন, "আগামী সপ্তাহে সড়কটি পরিদর্শন করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডেস্ক রিপোর্ট