জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ পুলিশ এখনো মনোবলের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। দুই দফায় নেতৃত্ব পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সময়ে দেশজুড়ে খুন, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং অপরাধীরা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সারা দেশে পুলিশের ওপর ২৮৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। থানা ঘেরাও, ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়িচাপা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। ডিএমপির পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে — এই তিন মাসেই ৫৭টি হত্যা, ৯০টি ডাকাতি ও দস্যুতা, ৫৪টি অপহরণ এবং ৪২৮টি চুরির মামলা হয়েছে। টিআইবির তথ্যমতে, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সারা দেশে ৬০৫টি খুন ও ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ আগস্টের ঘটনায় পুলিশের যে মানসিক ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা এখনো সারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, আইন প্রয়োগে যে মানসিক মনোবল ও পেশাগত দক্ষতা দরকার, পুলিশে সেই ছন্দপতন এখনো স্বাভাবিক হয়নি। অবসর আতঙ্ক, চাকরি হারানোর ভয় এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং — এই তিনটি সমস্যা একসঙ্গে পুলিশের কার্যকারিতাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজধানীতে। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে প্রকাশ্যে গুলি করে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই, মোহাম্মদপুর-বসিলায় কিশোর গ্যাংয়ের রাতভর দাপট এবং নিউমার্কেটে পুলিশের টহল গাড়ির পাশেই প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাত গভীর হলে ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের অবাধ বিচরণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকছেন।
পুলিশের সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, পুলিশকে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করতে হবে, এখানে কোনো আপোষের সুযোগ নেই। অপরাধ বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে এবং পুলিশ পুরোপুরি সক্রিয় না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে এবং সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট