তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হলেও বাকিরা এখনো ভেতরে আটকা রয়েছেন। তাদের জীবিত উদ্ধার করতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে জাতীয় জলবিদ্যুৎ শক্তি করপোরেশনের (এনএইচপিসি) কর্মীরাও রয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নামচি জেলার এনএইচপিসির তিস্তা ষষ্ঠ ধাপ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে। ঘটনার পর থেকেই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এসডিআরএফ), জেলা প্রশাসন, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি সেবা বিভাগসহ একাধিক সংস্থা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, মাটির নিচের শিলাস্তর থেকে বের হওয়া মিথেন গ্যাস সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জমে ছিল। পরে সেই গ্যাস বের করে দেওয়ার চেষ্টা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের পরই ভূমিধস হয় এবং সুড়ঙ্গের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বের হওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন শ্রমিক দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অনেকেই সুড়ঙ্গের গভীরে আটকা পড়ে যান। সোমবার বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার খবর পায়। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
তবে শুরু থেকেই উদ্ধারকাজে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়। সুড়ঙ্গের ভেতরে বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা অনেক কমে যায়। ধসের কারণে ভেতরে দৃশ্যমানতাও খুব কম ছিল এবং সুড়ঙ্গের পথ ছিল অত্যন্ত সরু। এসব কারণে উদ্ধারকর্মীদের পক্ষে ভেতরে প্রবেশ করা এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
সিকিম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নামচি জেলা প্রশাসন, এনএইচপিসি, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সিকিম পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা সারা রাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গেছে। উদ্ধারকারীরা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিবেশ এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ডেস্ক রিপোর্ট