বিলটি উত্থাপনের সময় নতুন বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা, কাঠামো ও জবাবদিহিতা নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাব বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নির্বাচনি ইশতেহার ও জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সাইবার অপরাধ, জুয়া, মাদক, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পুলিশের অধীনে আধুনিক ও দক্ষ একটি বিশেষায়িত বাহিনী প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এসআরবি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় না। নতুন বাহিনীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তদন্তের কমিটিতে বেসরকারি সদস্য, মানবাধিকারকর্মী ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
র্যাব বিলুপ্তির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনাকে তিনি এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নতুন বাহিনী যেন শুধু নাম পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রস্তাবিত আইনে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে ইউনিটটি গঠন করা হবে। এর সদর দপ্তর ঢাকায় এবং একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
বিলে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব এসআরবিকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির হেফাজতে রাখার সুযোগ থাকবে না। গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এবং জব্দ করা আলামত দ্রুত নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
এসআরবি সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলা, আইনসংগত আদেশ অমান্য, দায়িত্ব পালনের সময় নেশাগ্রস্ত থাকা, অবৈধ অর্থ আদায়, জমি দখল, অস্ত্র বা সরঞ্জাম হারানো এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব অপরাধে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিতসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এদিকে একই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল ২০২৬’ এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ বিল উত্থাপন করেন। বিল দুটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অধিকতর পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।