সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে এবং আগামী মাসে নতুন মালিকরা দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে ৭০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলেও নগদ থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না তানভীর আহমেদ মিশুক। নতুন ব্যবস্থাপনাতেও তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মালিকানা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে কয়েকজন বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছেন। ব্লু ওয়াটার হোল্ডিংস, ফিনটকচুয়াল হোল্ডিংস, সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স, এসপ হোল্ডিংস ও মিরাজ হোল্ডিংস তাদের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ফলে পুরোনো বিনিয়োগকারীদের প্রস্থানের পাশাপাশি আবুল খায়ের গ্রুপের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে নগদের মালিকানা কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, অধিকাংশ শেয়ারের মালিকানা তানভীর মিশুকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় প্রস্তাবিত লেনদেনের অর্থের বড় অংশ বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের কাছে যাওয়ার কথা। নতুন কাঠামোয় প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা, ডিজিটাল পেমেন্ট, মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন মূলধনের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে লাভজনকতা নিশ্চিত করাই অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে নগদে আরও বড় বৈদেশিক বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ চলছে বলেও জানা গেছে। সূত্রের দাবি, সিঙ্গাপুরের একটি খ্যাতনামা ব্যাংক থেকে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নগদের অন্যতম প্রধান শক্তি এর বড় গ্রাহকভিত্তি। সূত্রের তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহারকারী প্রায় সাড়ে ৫ কোটি এবং প্রতিদিন ৭০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। মোবাইল আর্থিক সেবা বাজারে বিকাশের পরই নগদের অবস্থান।
অল্প সময়ের মধ্যে বড় গ্রাহকভিত্তি ও বিস্তৃত লেনদেন নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠাকে ডিজিটাল আর্থিক খাতের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এই বিশাল বাজার ও গ্রাহকভিত্তিই নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে নগদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক মুতাসিম বিল্লাহ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব ছাড়বেন। তাঁর দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর মালিকানা পুনর্বিন্যাস ও ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে নগদ কিংবা আবুল খায়ের গ্রুপের পক্ষ থেকে মালিকানা পরিবর্তন ও নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের বক্তব্য জানতে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।