পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসলমান যখন আরাফাতের ময়দানে একত্রিত হন, তখন দেশ, ভাষা, বর্ণ ও সামাজিক অবস্থানের পার্থক্যগুলো যেন মুছে যায়। সবার পরিচয় একটাই, তারা আল্লাহর বান্দা।
পবিত্র মক্কা থেকে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের ময়দান হেরেমের সীমানার বাইরে। জিলহজ মাসের ৯ তারিখে হজযাত্রীরা এখানে অবস্থান করেন। হজের অন্যতম প্রধান রুকন হলো আরাফাতে অবস্থান। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘হজ হলো আরাফা।’ (সুনানে তিরমিজি: ৮৮৯)
আরাফাতে অবস্থানের সময় হজযাত্রীরা আল্লাহর জিকির, দোয়া, তাওবা ও ইস্তেগফারে সময় কাটান। নিজের ভুল ও গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি পরিবার, আপনজন ও মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করেন।
আরাফার দিন আত্মজিজ্ঞাসারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। জীবনে কোথায় ভুল হয়েছে, কারও অধিকার নষ্ট হয়েছে কি না, কোন গুনাহ থেকে ফিরে আসতে হবে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক কতটা দৃঢ়, এসব বিষয় নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।
আরাফাতের ময়দানে সম্পদ, বংশ, পদমর্যাদা কিংবা জাতীয়তার পার্থক্য থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা হুজুরাত: ১৩)
আরাফার দিনের দোয়ারও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৮৫) সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, আরাফার দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। (সহিহ মুসলিম: ১৩৪৮)
আরাফাতের শিক্ষা শুধু হজের সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অহংকার থেকে দূরে থাকা, মানুষের অধিকার আদায় করা, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করাও এই শিক্ষার অংশ।
আরাফাতের সঙ্গে বিদায় হজের স্মৃতিও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বিদায় হজে রাসুলুল্লাহ (স.) মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের মর্যাদা এবং পারস্পরিক অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।
আরাফাতের ময়দানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানের সমাবেশ সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও তাকওয়ার এক শক্তিশালী স্মারক। দুনিয়ায় মানুষ যত পরিচয়ই বহন করুক, আল্লাহর সামনে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় সে তাঁর বান্দা।
তথ্যসূত্র: সুরা হুজুরাত: ১৩; সুনানে তিরমিজি: ৮৮৯, ৩৫৮৫; সহিহ মুসলিম: ১৩৪৮