ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ , ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি যুবসমাজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নভেম্বরের মধ্যে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে মক্কায় মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড মাদক, কিশোর গ্যাং ও র‍্যাগ ডে রোধে মাউশির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে চুয়েটে ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার, ক্যাম্পাসে না আসার শর্তে রেলখাতের উন্নয়নে ৮০টি নতুন ইঞ্জিন আমদানির উদ্যোগ: রেলমন্ত্রী কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৩৫৩ জন আটক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুপারিশ তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রস্তাব ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য বৈঠক শেষ আজ, আলোচনায় শুল্ক ও বাণিজ্য ঘাটতি রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ এশিয়ার বাজারগুলোতে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি অবসরভাতা পেতে শিক্ষকদের ভোগান্তি বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে খাদ্য নিরাপত্তায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক পাকিস্তান ও ভারতীয়দের তুলনায় বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: WHO যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী

ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড়: মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তরুণের জাগরণ

প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রাজপথে নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০৮:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০৮:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৮৪ বার পঠিত
ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড়: মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তরুণের জাগরণ ছবি: সংগৃহীত
দিল্লির রাজপথে তরুণ প্রজন্মের সাম্প্রতিক এই নজিরবিহীন আন্দোলন ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কেবল একটি নির্দিষ্ট দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি তরুণদের ক্ষোভ এবং মোদী সরকারের প্রশাসনিক জবাবদিহিতার এক বিশাল গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে।

আন্দোলনের প্রাথমিক সূত্রপাত ঘটেছিল বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে। তবে রাজপথের ক্ষোভ এখন আর শুধু শিক্ষামন্ত্রীর ওপর আটকে নেই—তা সরাসরি আঘাত হানছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গত ১২ বছরের শাসন ব্যবস্থার ওপর। শিক্ষামন্ত্রী পদে থাকলেন কি থাকলেন না, তা আন্দোলনকারীদের কাছে গৌণ হয়ে উঠেছে; মোদীর নেতৃত্বকেই তারা এখন সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন।

এই আন্দোলনটি নির্দিষ্ট কোনো সংগঠন বা পরিচিত মুখ (যেমন 'কক্‌রোচ জনতা পার্টি' বা সোনাম ওয়াংচুক)-এর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় আটকে নেই। কোনো রাজনৈতিক দল বা ভাড়া করা বাসে চড়ে এই তরুণরা রাজপথে নামেননি। গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে একত্রিত হয়েছেন এবং আন্দোলনের গতিপথ স্বহস্তে তুলে নিয়েছেন।

অতীতের আন্দোলনগুলোকে মোদী সরকার এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যম সহজেই 'মুসলিম বিক্ষোভ', 'খালিস্তানি' কিংবা 'আরবান নকশাল' তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষের চোখ থেকে আলাদা করে দিতে পেরেছিল। কিন্তু বর্তমান আন্দোলনটি গড়ে উঠেছে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, কর্মসংস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের ওপর—যা ধর্ম, বর্ণ ও অঞ্চল নির্বিশেষে ভারতের সমস্ত সাধারণ তরুণকে একসূত্রে বেঁধেছে। ফলে এই ছাত্র-যুবদের সহজে কোনো শত্রু-ক্যাটাগরিতে ফেলে বিভ্রান্ত করার সুযোগ সরকার পাচ্ছে না।

বিচার বিভাগ, সংসদ এবং মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আজ তরুণেরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। আদালতের বিতর্কিত মন্তব্য এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমের চরম উপেক্ষা তরুণদের মনে এই ধারণাকে পোক্ত করেছে যে, তাদের কথা শোনার মতো আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক পথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে গেছে।

দীর্ঘ এক মাস ধরে আন্দোলনকারীদের পুরোপুরি উপেক্ষা করার নীতি নিয়েছিল সরকার। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রতিবাদ বজায় রেখে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারি শিক্ষার অবক্ষয়ের মতো সংকটগুলোকে সরাসরি দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের দরজায় পৌঁছে দিয়েছেন। এই আন্দোলনকে আর কেবল কাগুজে আশ্বাস বা আলোচনার টেবিলে আটকে রাখা যাচ্ছে না।

সাধারণত ভিন্নমতের প্রতিবাদ দমন করতে মোদী সরকার যে কৌশলগুলো ব্যবহার করত, তা এই অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সামনে এসে কাজ করছে না। বলপ্রয়োগ করতে না পেরে এবং আলোচনার কোনো স্পষ্ট পথ না পেয়ে সরকারকে বর্তমানে চূড়ান্ত বিভ্রান্ত ও ব্যাকফুটে দেখাচ্ছে।

এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো ভয়ের আবহ দূর হওয়া। কড়া পুলিশি পাহারা, ড্রোন নজরদারি, লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাসের ভয় উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে প্রমাণ করেছেন যে তারা আর ভীত নন। বিচ্ছিন্ন ভীতিকে একাট্টা করে একটি বলিষ্ঠ গণকণ্ঠে রূপান্তর করেছেন তারা, যা মোদী সরকারের তথাকথিত 'শক্তিশালী ভাবমূর্তি'কে এক বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।