স্থানীয় অধিবাসীরা বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, অকরিকা ও তার আশপাশের এলাকা থেকে ২০০ জনেরও বেশি তরুণ ও যুবক কাঠের নৌকায় চেপে ওই এলাকায় জড়ো হন। তারা মূল সুবিধাজনক স্থানে থাকা পাইপলাইনের অবৈধ একটি সংযোগ বিন্দু থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য চুরির চেষ্টা করছিলেন। তবে নৌকায় পেট্রোলিয়াম পণ্য ভর্তি করার সময় তীব্র ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ায় তারা মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পড়েন। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে অনেকেই নদীর পানিতে পড়ে ডুবে মারা যান এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হন।
ঘটনার সত্যতা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনুসন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে জানিয়ে পুলিশের মুখপাত্র ব্লেনসিং আগাবে বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে মূল কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত ভয়াবহতা উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম চালু রয়েছে।
এদিকে নাইজার বদ্বীপভিত্তিক পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা ‘ইউথস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভোকেসি সেন্টার’ (ইইএসি-নাইজেরিয়া) এই দুর্ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাইনফেস ডুমনামেনে ফাইনফেস জানান, ভুক্তভোগীরা ইনডোরামা এলেমে পেট্রোকেমিক্যালস এলাকা থেকে পোর্ট হারকোর্ট রিফাইনারি করিডর হয়ে রফতানিকারক জাহাজে পরিবাহিত হওয়া একটি পাইপলাইনের ট্যাপ পয়েন্টে একটি অবৈধ পাইপ যুক্ত করেছিলেন। উচ্চচাপে ওই পাইপলাইন দিয়ে যখন পেট্রোলিয়াম পণ্য পাম্প করা হচ্ছিল, ঠিক তখন একদল যুবক তাদের অপেক্ষমাণ নৌকাগুলোতে তা বোঝাই করার চেষ্টা করেন। আর এতেই তারা মারাত্মক বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে চলে আসেন। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলের নদীটিতে বেশ কয়েকজনের মরদেহ ভেসে থাকতে দেখা গেছে এবং অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি তেলসমৃদ্ধ নাইজার বদ্বীপ অঞ্চলে চলমান অবৈধ তেল চোরাচালান ও চুরির সঙ্গে জড়িত মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রিভার্স স্টেট ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে অপরিশোধিত তেল চুরি, অবৈধ শোধন এবং অবৈধ জ্বালানি পরিবহনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলে রিভার্স, ডেল্টা এবং আকওয়া ইবম স্টেটে অভিযান চালিয়ে ১০টি অবৈধ শোধনাগার ধ্বংস করা হয় এবং ৯ জন সন্দেহভাজন তেল চোরকে গ্রেফতার করা হয়। সেই অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার লিটারেরও বেশি চোরাই অপরিশোধিত তেল এবং ২৬ হাজার লিটারেরও বেশি অটোমোটিভ গ্যাস অয়েল উদ্ধার করেছিল সেনাবাহিনী। এ ছাড়া অতিসম্প্রতি গত ২৮ আগস্ট রিভার্স স্টেটে অভিযান চালিয়ে নাইজেরীয় নৌবাহিনী আরও দুটি অবৈধ শোধনাগার ধ্বংস করে এবং ৩৪ হাজার লিটার সন্দেহভাজন অবৈধভাবে শোধিত অটোমোটিভ গ্যাস অয়েল জব্দ করে।