মানবদেহের সুস্থতা বজায় রাখতে বিশুদ্ধ পানির ভূমিকা অপরিসীম। শরীরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশুদ্ধ পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা, রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখা এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে। অপরদিকে দূষিত বা জীবাণুযুক্ত পানি পান করলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
অনেক সময় বাহ্যিকভাবে পরিষ্কার দেখালেও পানিতে ক্ষতিকর জীবাণু বা দূষিত উপাদান থাকতে পারে। তাই পানি পান করার আগে তা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ কিনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে পানি ফুটিয়ে বা নির্ভরযোগ্য পরিশোধন পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও প্রচণ্ড গরমের সময় শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান না করলে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং বাইরে কাজ করা মানুষদের পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করার বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে।
শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং জনসমাগমস্থলগুলোতেও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি রোগের বিস্তার কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশুদ্ধ পানি পান এবং নিরাপদ পানি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা হলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তাই সুস্থ জীবনযাপন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশুদ্ধ পানি পানের বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট