গত শনিবার দুপুর সোয়া ৩টার দিকে গায়ানার রাজধানী জর্জটাউন থেকে রওনা হয় ‘এমভি বারিমা’ নামের নৌযানটি। তার উদ্দেশ্য ছিল ভেনেজুয়েলা সীমান্তের ঠিক কাছে, তেলসমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলের পোর্ট কাইতুমা। কিন্তু রাত ১১টার কিছুক্ষণ পর মাঝসমুদ্রে থাকা অবস্থায় নৌযানটি থেকে একটি জরুরি বিপদসংকেত পাঠানো হয়।
তারপরই যাত্রীদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। দেশবাসীকে বাঁচাতে গায়ানা প্রতিরক্ষা বাহিনী, উপকূলরক্ষী ও বিমানবাহিনীর পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত বিমান, মাছ ধরার নৌকা নিয়ে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়েন বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবকেরা।
রবিবার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে গায়ানার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস জানান, সাগরে মানুষের জীবন বাঁচাতে অনুসন্ধান এলাকা ৪০০ বর্গ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১,০৭০ বর্গ কিলোমিটার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জলপথের গতিপ্রকৃতি চেনা স্থানীয় জেলেদেরও এই উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে ঠিক কী কারণে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে চলছে অনুসন্ধান। তবে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্যের বোঝাইয়ের মতো অবহেলার কোনো প্রমাণ মেলেনি। দেশটির গণপূর্ত মন্ত্রী হুয়ান এডগিল স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী জাহাজটি আইনি নিয়ম মেনেই চলাচল করছিল।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, ‘জাহাজটির ইঞ্জিনে বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। অতিরিক্ত পণ্য বা ওজনের কারণেও এটি ডুবেনি। মূলত সমুদ্রের প্রচণ্ড ও আকস্মিক জোয়ারের তোড়েই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।’
সরকারি তথ্যমতে, ৩৯৭ জন যাত্রী ও ২৮৪ টন পণ্য পরিবহনের ক্ষমতাসম্পন্ন নৌযানটি অনুমোদিত সীমার চেয়ে কম, অর্থাৎ ২৬৮ টন পণ্য বহন করছিল। এছাড়া জরুরি সুরক্ষার জন্য জাহাজটিতে ২৫০টি লাইফজ্যাকেট, দুটি লাইফবোট ও ছয়টি ইনফ্ল্যাটেবল (হাওয়ায় ফোলানো) ভেলাও মজুত ছিল। তবুও প্রকৃতির রুদ্ররূপের কাছে শেষ রক্ষা হয়নি জাহাজটির।
ডেস্ক রিপোর্ট