ইরানকে শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে
গোপন ‘C430L’ প্রকল্পে রুশ বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় উন্নত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে ইরান—ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে এমন দাবি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের।
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ১১:৪৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ১১:৪৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৯৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে শব্দের গতির প্রায় পাঁচ গুণ দ্রুতগতির অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে রাশিয়া। এ লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে গোপনে একটি কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, যার কোডনেম ‘সি৪৩০ এল’। রাশিয়ার কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞও এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য, ইরানকে এমন একটি নতুন অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম করে তোলা, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
‘সি৪৩০ এল’ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে র্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা উন্নয়নে সহায়তা করা। এ প্রযুক্তিতে এমন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়, যা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েক গুণ বেগে দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম করে। ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির ব্যবহার মূলত জাহাজবিধ্বংসী এবং স্থলভাগে হামলা চালাতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে হতে পারে।
সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উচ্চ গতির পাশাপাশি তুলনামূলক কম উচ্চতায় উড্ডয়ন করার সক্ষমতা। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এসব অস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংসের সময় অনেকটাই কমে যায়। পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় ইরানের জন্য এমন প্রযুক্তির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি।
ইরান এরই মধ্যে র্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি এবং এর উড্ডয়ন পরীক্ষা চালিয়েছে। তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইরান এখন পর্যন্ত মোতায়েন করেছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান রাশিয়াকে শাহেদ অ্যাটাক ড্রোন সরবরাহ করেছে। এসব ড্রোন রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার ভূখণ্ডে শাহেদ ড্রোন উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও ইরান সহায়তা করেছে।
ইউক্রেন ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলাকালে তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিয়েছে মস্কো। এর মধ্যে স্যাটেলাইট ছবি, ড্রোন সহায়তা এবং বিভিন্ন অস্ত্রের উপাদান সরবরাহের বিষয়ও রয়েছে। তবে ‘সি৪৩০ এল’ প্রকল্পের তথ্য রাশিয়া-ইরানের মধ্যে আরও গভীর সামরিক সহযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: ফাইনান্সিয়াল টাইমস।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।