হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ—দুই জায়গাতেই চিকিৎসকদের দেরিতে আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। রোগীদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এবার হাসপাতাল পরিচালকের একটি বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসকদের হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনা করে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হন।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের প্রবণতাও বেশ বেশি। তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসাসেবা সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
এ কারণে বিজ্ঞপ্তিতে সব চিকিৎসককে সকাল ৮টায় যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনড্যান্সে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বিষয়টি আপাতত প্রাথমিক সতর্কীকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যত্যয় পুনরায় পরিলক্ষিত হলে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বুধবার ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।