গাইবান্ধার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে চলছে মাত্র ৫০ শয্যার পুরোনো অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী, স্বজন এবং চিকিৎসকদের।
জানা গেছে, হাসপাতালটিতে নিয়মিত প্রায় ৪০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকেন, যদিও অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ২৫০। অন্যদিকে বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০ রোগী। পর্যাপ্ত জায়গা ও বেডের অভাবে অনেক রোগীকেই মেঝে কিংবা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমনকি একাধিক রোগীকে একই বেড ভাগাভাগি করেও থাকতে দেখা যায়।
রোগীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে হাসপাতালের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। নোংরা পরিবেশ, দুর্গন্ধ এবং গাদাগাদি অবস্থার মধ্যে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকেই আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী জানান, দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও বেড পাননি, বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরেক স্বজন বলেন, এত মানুষের ভিড়ে হাসপাতালে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে, চিকিৎসার পরিবেশও অনুপযোগী।
এই সংকট নিরসনে ২০১৮ সালে হাসপাতাল চত্বরে ৯ তলা ও ৬ তলা দুটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা পরে বাড়িয়ে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ১৮ মাস।
তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরও পেরিয়ে গেছে প্রায় ৬ বছর, এখনো চালু হয়নি নতুন ভবন দুটি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহ বলেন, অবকাঠামোগত সংকটের কারণে রোগীদের সঠিকভাবে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি দ্রুত নতুন ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নতুন ভবন চালু না হলে এ সংকট আরও তীব্র হবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান আরও নেমে যেতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট