স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে যেসব খাবার খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিকর খাবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১০:৪২:৫৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১০:৪৮:২৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৩৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, শেখার সক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা ধরে রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পুষ্টি। ভারতের নিউরোসার্জন ডা. শ্রীকান্ত শর্মার মতে, জিনগত বৈশিষ্ট্য বা বয়স পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দীর্ঘ সময় ভালো রাখা যায়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
ডা. শ্রীকান্ত শর্মা জানান, মানবদেহের মোট শক্তির প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহার করে মস্তিষ্ক। ফলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং চিন্তাশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে গাট ব্রেন অ্যাক্সিস নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া মেজাজ, শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে দই, ঘোল, ছোলা, রাজমা এবং বিভিন্ন ধরনের মিলেট নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব খাবার অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর চর্বি বিশেষ করে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমাতে সহায়ক। এ জন্য স্যালমন, সারডিন মাছ, আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজিও মস্তিষ্কের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। বেরিজ, পালং শাক, টমেটো, গাজর ও বিট নিয়মিত খেলে জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা উন্নত হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই নিউরোসার্জন।
ডা. শ্রীকান্ত শর্মার মতে, ভিটামিন বি৬, বি১২ এবং ফোলেট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদান হোমোসিস্টেইন নামের অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যার মাত্রা বেড়ে গেলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সবুজ শাকসবজি, ডাল, ডিম, দুধ, দুগ্ধজাত খাবার এবং ফোর্টিফায়েড খাদ্য এসব ভিটামিনের ভালো উৎস। নিরামিষভোজীদের ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতির বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি গ্লুকোজ হলেও অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রার দ্রুত ওঠানামা ঘটিয়ে ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। এর পরিবর্তে ওটস, মিলেট, পূর্ণ শস্য এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল খেলে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ হয়, যা দীর্ঘ সময় মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়ই সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। প্রতিদিনের সচেতন খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।